মোঃ নুর আলম পাপ্পু
খোকসা কুষ্টিয়াঃ
কুষ্টিয়া খোকসা হাসপাতালে বিদ্যুৎ চলে গেলে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেন অচল হয়ে পড়ে। আজ ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যার পর থেকে হাসপাতালজুড়ে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। জরুরি বিভাগসহ ওয়ার্ড, অপারেশন রুম—সব জায়গায় কার্যত থমকে যায় স্বাস্থ্যসেবা। বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরম ও অন্ধকারে দিশেহারা হয়ে পড়েন রোগী ও স্বজনরা।
মোমবাতি ও মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইটে চলছে চিকিৎসা, এমন ভুতুরে পরিবেশে দীর্ঘদিন ধরে সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন ডাক্তার ও নার্সরা। হাসপাতালের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক বলেন, “জরুরি রোগী আসলে আমরা অন্ধকারে কীভাবে সেবা দেবো? একটি সেলাই দেওয়ার দরকার ছিল, কিন্তু আলো না থাকায় সম্ভব হয়নি।”
বর্তমানে মাত্র দুইজন ডাক্তার দিয়ে চলছে পুরো হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা। এতে চিকিৎসকরা হিমসিম খাচ্ছেন। একজন সিনিয়র নার্স বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলে সব কার্যক্রম থেমে যায়“ওয়ার্ডে মোবাইলের আলোয় রোগীদের সেবা দিতে হচ্ছে। তীব্র গরমে রোগীরা অতিষ্ঠ, অথচ কিছুই করার নেই।
বিদ্যমান এই সংকটে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রাও। খোকসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রদিপ্ত রায় দীপন জানান, “আমি বিষয়টি জেনেছি, দ্রুত সমাধানের জন্য কথা বলবো।
খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. মো. আবির হোসেন (সোহাগ) বলেন, জেনারেটর থাকলেও তা নষ্ট হয়ে আছে। আমরা নতুন আইপিএস-এর জন্য আবেদন করেছি। এছাড়াও চিকিৎসক সংকটও রয়েছে, স্বীকার করছি।
এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুধু খোকসা নয়, পাশ্ববর্তী এলাকা থেকেও অসংখ্য মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে। অথচ সেখানে বিদ্যুৎ না থাকায় সেবা কার্যত অচল।
বিদ্যুৎ চলে গেলে শুধু আলোই নিভে যায় না, থেমে যায় মানুষের বাঁচার লড়াইও। এমন দুর্দশা থেকে দ্রুত মুক্তির দাবি জানাচ্ছেন খোকসাবাসী।
সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ভূঁইয়া
mounata01@gmail.com