রাখী গোপাল দেবনাথ, নিকলী (কিশোরগঞ্জ) :
কিশোরগঞ্জের নিকলীতে উল্টো রথযাত্রার মধ্য দিয়ে শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব জগন্নাথদেবের রথযাত্রা। শনিবার (০৫ জুলাই) বেলা ৪টায় ধোপাহাটি জীবন আচার্য্যর বাড়ির মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বের হয় উল্টো রথের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।
বর্ণিল সাজে সজ্জিত ৩ বিশাল রথে জগন্নাথ দেব, শুভদ্রা ও বলরামের প্রতিকৃতি নিয়ে বের হয় ভক্তরা। এ সময় কিশোরগঞ্জ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি তাপস কুমার সাহা উল্টো রথযাত্রার উদ্বোধন করেন। পরে তা নিকলী কেন্দ্রীয় হরিসভা মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়। এর মধ্য দিয়েই সমাপ্তি ঘটে রথযাত্রা উৎসবের ৯ দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের।
এদিন দুপুরে উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে নিকলী কেন্দ্রীয় হরিসভার মন্দির প্রাঙ্গনে এক আলোচনা সভায় মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারন সম্পাদক স্বপন কুমার সাহার সভাপতিত্বে ও রাখী গোপাল দেবনাথ ও সজল কুমার বর্মনের যৌথ সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি তাপস কুমার সাহা, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক সুকুমার বর্মন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এনসিসি ব্যাংকের এসইও উৎপল দাশ,প্রদীপ সাহা,সুমন সাহা,সুজন সাহা, রাজন সূত্রধর, রন্জিত সূত্রধর, ছাড়াও অনেকে।
এ সময় প্রধান অথিতি তাপস কুমার সাহা বলেন, জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার উদ্দেশ্য ও তার এই যাত্রার মহিমা শেখায় ভ্রাতৃত্ববোধ। রথযাত্রা আমাদের সবার মিলন মেলা। এ দেশ সব ধর্মের মানুষের অসাম্প্রদায়িক দেশ। এখানে যে যার মতো করে ধর্মীয় উৎসব পালন করবেন। কেউ কারো প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব দেখাবেন না। আমরা রথযাত্রার পরও যেন একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখি। সবার বিপদে পাশে দাঁড়াই।
নিকলীর বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার ভক্ত ঐতিহ্যবাহী এ উৎসবে অংশগ্রহণ করে। রথযাত্রার এ শেষ পর্বকে ঘিরে নিকলীতে উৎসবের মাহাত্ম্য ছড়িয়ে পড়ে। এদিন সকাল থেকেই মন্দিরে ভক্তদের ঢল নামে। রথ টানার জন্য সড়কের দুপাশে জড়ো হন ভক্তরা। যাত্রাপথে ভক্তরা চলন্ত রথের দড়ি ছুঁয়েছেন। এ সময় রথ থেকে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। রঙিন পতাকা, আলোকসজ্জা আর ঢাক-ঢোলেরও বাঁশির তালে মুখরিত হয় রাস্তাঘাট।
উল্লেখ্য, রথযাত্রার পর জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা মাসির বাড়ি বৃন্দাবন থেকে নিজ দ্বারকায় মন্দিরে ফিরে আসেন। এ যাত্রাকেই বলা হয় উল্টো রথযাত্রা। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, উল্টো রথযাত্রায় অংশ নিলে পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং মনের বাসনা পূরণ হয়। গত সপ্তাহে নিকলী কেন্দ্রীয় হরিসভার উদ্যোগে বিভিন্ন মাঙ্গলিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শুরু হয় রথযাত্রার মূল অনুষ্ঠান। এর মধ্য রয়েছে হরিনাম সংকীর্তন, বিশ্বশান্তি ও মঙ্গলকামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আলোচনা সভা, পদাবলি কীর্তন, আরতি কীর্তন, ভাগবত কথা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ভগবত গীতা পাঠ, ধর্মীয় নাটক মঞ্চায়ন। ওইদিন উদ্বোধনের পর রথযাত্রা করে উপজেলা বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মন্দিরে নেওয়া হয়। টানা ৯ দিন চলার পর উল্টো রথযাত্রা হয়। প্রথা রয়েছে, মাসির বাড়ি থেকে পোড়া পিঠে খেয়ে আবার রথে চড়ে বাড়ির পথে রওনা দেন জগন্নাথদেব।নিকলীতে মাসির বাড়ি স্বর্গীয় ক্ষিতিশ চন্দ্র দাসের বাড়িতে পোড়া পিঠে খেয়ে ও বিশ্রাম নিয়ে রথে চড়ে বাড়ির পথে রওনা দেন জগন্নাথদেব।এই যাত্রাকে বলা হয় উল্টোরথ। সুসজ্জিত রথে বসিয়ে দেবতাদের রথ টানা হয়। রথের শীর্ষে থাকেন মাধবদের বিগ্রহ। তাকে বহন করা রথটি ভক্তরা টেনে নিয়ে যায়।
সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ভূঁইয়া
mounata01@gmail.com