সংবাদ প্রতিবেদন:
স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলা নাট্যমঞ্চে ঐতিহ্যবাহী পালানাট্যের ধারাকে নতুনভাবে জীবন্ত করে তুলতে সারথি থিয়েটার, গাইবান্ধা নিয়মিত আয়োজন করে আসছে ‘‘কালিন্দীর গীত’’। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, শুক্রবার রাত আটটায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এর ৪৭তম আসর। এবারের আয়োজনের স্থান করা হয়েছে তিস্তার উত্তর তীর—কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী প্রান্তে অবস্থিত মওলানা ভাসানী সেতুর পাদদেশ।
আসরে মঞ্চস্থ হবে সেলিম আল দীনের কালজয়ী রচনা ‘যৈবতী কন্যার মন’ অবলম্বনে নির্মিত পালানাটক। পালানাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন সায়িক সিদ্দিকী। প্রযোজনায় রয়েছে সারথি থিয়েটার, গাইবান্ধা।
গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম—উত্তরের এই দুই জেলার মানুষকে তিস্তা নদী আলাদা করলেও সম্প্রতি নির্মিত মওলানা ভাসানী সেতু মিলিয়ে দিয়েছে দু’পারের জনমানুষকে। সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে বেশ কয়েকবার পালানাট্যের আসর বসেছে, তবে দলের মুখপত্র জুলফিকার চঞ্চল বলেন—“উত্তর প্রান্তে এবারই প্রথমবারের মতো পালানাট্য পরিবেশিত হতে যাচ্ছে। দর্শকশ্রোতার দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে এ আয়োজনকে ঘিরে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস।”
সারথি থিয়েটার জানিয়েছে, ‘‘কালিন্দীর গীত’’–এর এই আসর শুধু নাট্যপ্রেমীদের বিনোদন নয়, বরং উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ সংস্কৃতিকে নতুন করে জাগিয়ে তুলবে।
পালানাট্যের ঐতিহ্য ও গুরুত্ব
পালানাট্য বাংলার প্রাচীনতম গণমুখী নাট্যরীতি, যা মূলত গ্রামীণ জনপদে ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চেতনা জাগিয়ে তুলতে পরিবেশিত হতো। দলবদ্ধ অভিনয়, গীতিনাট্য, তাৎক্ষণিক সংলাপ ও সুর-সঙ্গীতের মেলবন্ধনে পালানাট্য হয়ে উঠত জনগণের বিনোদন ও শিক্ষার অন্যতম মাধ্যম। এ নাট্যরীতিতে জীবনযাপন, সামাজিক দ্বন্দ্ব, প্রেম-ভালোবাসা, গ্রামীণ উৎসব, এমনকি রাজনৈতিক বার্তাও ফুটে ওঠে।
আধুনিক মঞ্চনাট্যের বিকাশে পালানাট্যের অবদান অপরিসীম। নাট্যগুরু সেলিম আল দীনও পালানাট্যকে নতুন ব্যাখ্যা দিয়ে গ্রামীণ দর্শকের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। তাই ‘কালিন্দীর গীত’-এর মতো আয়োজন কেবল একটি নাট্য অনুষ্ঠান নয়, বরং ঐতিহ্যবাহী নাট্যশিল্পকে টিকিয়ে রাখা এবং নতুন প্রজন্মকে এর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার এক মহৎ উদ্যোগ।
সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ভূঁইয়া
mounata01@gmail.com