নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
রূপগঞ্জে ডিবি পরিচয়ে তেলের ড্রামভর্তি ট্রাক ডাকাতি; আদালত কর্তৃক পিবিআইকে অধিকরতর তদন্তের নির্দেশ; পিবিআই কর্তৃক গ্রেফতার-১ স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি।
গত ০৮/০৯/২০২২ তারিখে নারায়ণগঞ্জের সিটি মিল থেকে চালান মোতাবেক ১৮,২০,০০০/-টাকা মূল্যের ৬০ ড্রাম সিটি ভোজ্য তেল ভূক্তভোগী পংকজ কুমার সাহা (৪৬) এর নিজস্ব ট্রাক যোগে টাংগাইলের এলেঙ্গার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। ঢাকা সিলেট মহাসড়ক পথে রূপগঞ্জ থানাধীন ইউএস বাংলা মেডিকেল কলেজের নিকটে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে সাদা মাইক্রোবাসে আসা ৬/৭ জন ব্যক্তি ট্রাকটি পথ গতিরোধ করে থামায়। তারা কাগজপত্র দেখে চালক ও হেলপারকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে চোখ বেঁধে অপহরণ করে। পরে ট্রাকসহ মালামাল ডাকাতি করে নরসিংদীর দিকে নিয়ে চলে যায়। বিকালে মাধবদীর পাঁচদোনা-ঘোড়াশাল রোডে মালামাল নামিয়ে খালি ট্রাক, চালক ও হেলপারকে ফেলে রেখে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় ভূক্তভোগী পংকজ কুমার সাহা (৪৬) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানার মামলা রুজু করে মামলা নম্বর ৩০ তারিখ -১০/০৯/২০২২,ধারা-১৭১/৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড দায়ের করেন। ২০২৩ সালে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ৭ জনকে গ্রেফতার করে এবং ডাকাতির মালামাল উদ্ধার না করে ৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ডাকাতির মালামাল উদ্ধার না হওয়ায় এবং কোনো আসামীর ১৬৪ ধারা জবানবন্দি না থাকায় বিজ্ঞ আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলাকে নির্দেশ প্রদান করেন। বর্তমানে এসআই (নিঃ) মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন মামলাটি তদন্ত করছেন।
পিবিআই এর তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার (০১/০২/২০২৬) ইং তারিখ বিকাল অানুমািনক ১৭.৩০ ঘটিকায় ডিএমপি ঢাকার বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য মো: রনি হোসেন (২৫) আটক করে। আসামি রনি হোসেন ফরিদগঞ্জ, চাদঁপুর কে গ্রেফতার করে। গত সোমবার ০২/০২/২০২৬ ইং তারিখে ০২ (দুই) দিনের পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে আসামী মো: রনি হোসেন ঘটনার সহিত জড়িত ছিল মর্মে স্বীকার করে এবং ঘটনায় তার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিসহ ডাকাতির মালামাল বিক্রির টাকার ভাগ বাটোয়ারার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। রিমান্ড শেষে আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে আসামী রনি সেচ্ছায় ফৌঃকাঃবিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। পিবিআই এর তদন্তে এবং আসামীর ১৬৪ ধারার জবানবন্দি পর্যালোচনায় থানা পুলিশের অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত আসামীদের মধ্যে শুধুমাত্র ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসের ড্রাইভার চাঁন মিয়া এর জড়িত থাকার বিষয়টি ওঠে আসে। ঘটনার সাথে জড়িত ডাকাত দলের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

