নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ-এ ৭ হাজার ৪৫০ পিস ইয়াবাসহ ৮ কুখ্যাত মাদককারবারি গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ।
মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতা ও শেল্টারদাতাদের চিহ্নিত করে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি স্থানীয়দের।
মাদকের ভয়াল থাবায় বিপর্যস্ত জনপদে অবশেষে বড়সড় সাফল্য দেখালো পুলিশ।
নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৭,৪৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ৮ জন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ।
পরিচালিত এই অভিযানে উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক অবৈধ বাজারমূল্য প্রায় ২২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পুলিশ জানায়, ৩টি নিয়মিত মাদক মামলায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এছাড়া সিআর ওয়ারেন্টভুক্ত আরও ১ জনকে আটক করা হয়েছে।
সর্বমোট গ্রেপ্তারকৃত আসামির সংখ্যা ৮ জন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিজ্ঞ নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং এলাকায় মাদক নির্মূলে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, এত বিপুল পরিমাণ ইয়াবা কীভাবে এলাকায় প্রবেশ করলো?
কার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এই মাদক সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা চালিয়ে আসছিল?
কার নির্দেশে এবং কার অর্থায়নে এই চক্র পরিচালিত হচ্ছিল?
একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের সহায়তা ছাড়া এত বড় চালান সংগ্রহ, মজুদ ও বাজারজাত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়-এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তাই শুধু গ্রেপ্তারেই সীমাবদ্ধ না থেকে এই চক্রের মূল হোতা, অর্থদাতা ও শেল্টারদাতাদের শনাক্ত করা এখন সময়ের দাবি।
রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ ও কললিস্ট যাচাইয়ের দাবি
সচেতন নাগরিক সমাজের জোর দাবি:
গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।
তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করে কললিস্ট ও কল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে মাদক সিন্ডিকেটের মূল নেটওয়ার্ক উদ্ঘাটন করা হোক।
কারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখত, কার নির্দেশে চালান আনা হতো এবং কারা বিতরণ নিয়ন্ত্রণ করত-তা খতিয়ে দেখা হোক;
শেল্টারদাতা ও প্রভাবশালীদের আইনের আওতায় আনা হোক।
মাদক ব্যবসা শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, এটি একটি সামাজিক ধ্বংসযজ্ঞ। ইয়াবা তরুণ প্রজন্মকে বিপথে ঠেলে দিচ্ছে, পরিবার ধ্বংস করছে, অপরাধ বাড়াচ্ছে।
তাই এই চক্রের মূল শিকড় উপড়ে ফেলতে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
সরকার ঘোষিত “জিরো টলারেন্স” নীতির বাস্তব প্রয়োগ এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সিদ্ধিরগঞ্জবাসী চায়-এই অভিযানের মাধ্যমে শুধু খুচরা ব্যবসায়ী নয়, বরং পর্দার আড়ালে থাকা গডফাদারদেরও চিহ্নিত করে আইনের মুখোমুখি করা হোক।
মাদকমুক্ত সিদ্ধিরগঞ্জ গড়তে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সচেতন জনগণের সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে একমাত্র পথ।
এখন দেখার বিষয়-এই বড় গ্রেপ্তারের সূত্র ধরে মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতারা আদৌ ধরা পড়ে কিনা, নাকি আবারও পর্দার আড়ালেই থেকে যায়।

