মনিরুজ্জামান তুহিন, ইবি প্রতিনিধি:
ছাত্র শিক্ষক সংহতি দিবস এবং জুলাই বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জুলাই শহীদ পরিবারের সাথে মতবিনিময় ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে বেলা ১০ টায় মতবিনিময় ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ১৭ শহিদ পরিবারদের উপহার এবং বিপ্লবে গ্রেফতার হওয়া ৩১ জন শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
জুলাই বিপ্লব বর্ষপূর্তি উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী ও কোষাধ্যক্ষ ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
শহিদ ইউসুফের মেয়ে শিমা খাতুন বলেন, জুলাই বিপ্লবের সময় আমিও ঘরে বসে থাকতে পারিনি, আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি। আব্বা যখন গুলি খেয়ে মারা যান, তখন গিয়ে দেখি একসাথে ৩ জন গুলিবিদ্ধ। ৩জন শহিদকে দেখে প্রথম বুঝতে পারছিলাম না আমারা আব্বা কোনটা। পরে আব্বার পা দেখেই বুঝতে পেরেছি ওনি আব্বা।
শহিদ সবুজের স্ত্রী রেশমা খাতুন বলেন, আমার স্বামী জীবন দিয়েছে দেশের জন্য, জাতির জন্য সেটা যাতে দেশ মনে রাখে। আমরা হাসবেন্ডের ব্যাপারে মামলা করেছি, ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে কিন্তু এখনও বিচার করা হয়নি। আমরা কিছু চাই না তবে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে ফাঁসিতে ঝুলাতে হবে। সকল শহিদ পরিবারের প্রতি সুনজর রাখবেন। আমি সুবিচার চাই এবং খুনিদেরকে ফাঁসিতে ঝুলাতে চাই।
এসময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, রক্তের বিনিময়ে সবসময় পরিবর্তন সাধিত হয়। আর রক্ত দিতে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি জাতিকে জাগ্রত হতে হয়। ঐক্যবদ্ধ না হলে ফ্যাসিস্ট শাসনকে উৎপাটিত করা যেত না। আমাদের জাতি যে দেশ পেয়েছে সেই দেশ আর পেছনে ফিরে যাবে না, আর গণতন্ত্রহীন হবে না, বৈষম্যমূলক হবে না। আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে নিজেকে নিবেদিত করতে হবে।
এসময় তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে আহ্বান করে বলেন, শহিদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করা কোনো একক ব্যক্তি বা দলের পক্ষে সম্ভব নয়। আপনারা একটি সুন্দর দেশ গড়ুন, না হলে শহিদের রক্তের ঋণ শোধ হবে না।

