রমজান আলী জিসান, ভ্রম্যমান প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হলো ‘মেধা অন্বেষণ উৎসব ও বৃত্তি পরীক্ষা’। বিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই পরীক্ষায় উপজেলার ২০টি বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার মোট ৬৯১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য লায়ন আসলাম চৌধুরী।
শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, প্রতিযোগিতামূলক চেতনা জাগ্রত করা এবং শিক্ষা-উদ্দীপনা বাড়ানোর লক্ষ্যেই কাঞ্চননগর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এ আয়োজন করে। সকাল থেকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ছিল উৎসবমুখর। বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে লায়ন আসলাম চৌধুরী বলেন, “মানুষের আসল পরিচয় তার জ্ঞান, চরিত্র ও গরিমায়। সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়, মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্তানকে ভালোবাসা ও শাসনের মাধ্যমে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং দশম শ্রেণি পর্যন্ত তাদের হাতে মোবাইল ফোন না দেওয়ার পরামর্শ দেন।
প্রখ্যাত বিজ্ঞানী এ.পি.জে. আব্দুল কালামের জীবনাদর্শের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, জীবনে সফলতা আসে জ্ঞান, অধ্যবসায় ও সৎ চরিত্রের মাধ্যমে। এগুলো অর্জন করতে পারলেই একজন মানুষ সমাজ ও জাতির জন্য অনুকরণীয় হয়ে উঠতে পারে।
আয়োজকদের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, “গ্রামীণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি হয়। এ ধরনের শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে এবং আগামী প্রজন্মকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাঞ্চননগর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও চট্টগ্রাম কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. মুফিদুল ইসলাম মামুন। সঞ্চালনা করেন ইঞ্জিনিয়ার মোবারক হোসেন রুবেল।
বিশেষ অতিথি ছিলেন ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন।
এছাড়া বক্তব্য দেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নজমুল আজম চৌধুরী, প্রধান শিক্ষক আব্দুর সাত্তার, মহসিন কবির চৌধুরী, আনোয়ারুল আজিম, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হান্নান চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শফিউল আজম প্রমুখ।
দিনব্যাপী আয়োজিত এই বৃত্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে অতিথিরা পুরস্কার, মেধাবৃত্তির সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেন। আয়োজকরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে যাতে গ্রামীণ শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ পায় এবং শিক্ষার প্রতি আরও উৎসাহী হয়।

