নুরুল আবছার নূরী
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি আধ্যাতিক নগরী নামে পরিচিত মাইজভান্ডার দরবার শরীফ।আধ্যাতিক সরাফতে ভান্ডার তরিকায়ে মাইজভান্ডার প্রবর্তক গাউছুল আজম সৈয়দ আহমদম উল্লাহ মাইজভান্ডারী (কঃ) ১০ মাঘ বার্ষিক ওরশ উপলক্ষে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ আশেক ভক্ত ও জায়েরিন দরবার শরীফের আগমন করে। জেয়ারত বা ওরশ থেকে নিজ নিজ বাড়ি ফেরার পথে ভান্ডারী মুলা নিয়ে যায়।
ভান্ডারী মুলা ইতিহাস একটি একটি হাইব্রিড জাপানি মুলা। তবে এই মুলাকে ভান্ডারী মুলা নামে পরিচিত হওয়ার কারণ কৃষি প্রতি বছর মাইজভান্ডার দরবার শরীফের ওরশ উপলক্ষে এই মুলার চাষ করে থাকে। এই মুলা হালদা নদীর চরে বেশি উৎপাদন হয়।
চট্টগ্রাম -খাগড়াছড়ি মহাসড়ক থেকে পশ্চিেম এক কিলোমিটার মেঠোপথ পায়ে হেটে হালদা নদী সে হালদা নদীর চরে এই মুলার ক্ষেত।
এই মুলা জাত বীজ সংক্রান্ত জানতে চাইলে ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আবু সালেক বলেন এটি একটি হাইব্রিড জাপানি মুলা। এই মুলা হালদার চরে বেশি উৎপাদন হওয়ার কারণ বর্ষাকালে বৃষ্টিতে উজান থেকে পাহাড়ি ঢলে নেমে আসে এতে যে পরিমান পলি জমে সেই পলিতে প্রচুর পরিমাণ পুষ্টি থাকে যা এই মুলার চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এক একটি মুলা ১০-১৫ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। তারঁ কাছে এর মূল্য ও বাজার জাতের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন আসলে #এই মুলা প্রকৃপক্ষে মাইজভান্ডার দরবার শরীফ ওরশ উপলক্ষে এর চাষ করা হয়। ওরশের পর মূল্য কমে যাই এতে কৃষিদের হতাশ হতে দেখা যায়। আমরা চেষ্টা করে চলছি যাতে করে কোন কুলষ্টোর বা হিমাগারে রেখে পরবর্তীতে বেশি মূল্যে বিক্রি করা যায়। এই ব্যাপারে হিমাগারে মালিকদের সাথে আলাপ করা হবে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট আঞ্চলিক মুখ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ ডক্টর এস এম ফয়সল বলেন ভান্ডারী মুলা আসলে এটি হাইব্রিড জাতীয় জাপানি মুলা এর আরেক নাম বারি ১ জাপানি মুলা বা তাসাকিসান মুলা। এটির উৎভাবন করেন জাপানের সবজি-বিঞ্জানী তাসাকিসান।জাপানের তাকসিড (TAKHSEED)কোম্পানি এটি বাজার জাত করে থাকেন। তিনি আরও বলেন এটি উত্তর চট্টগ্রামে এর আরেকটি নাম রয়েছে তা হল ভান্ডারী মুলা। এটি নিয়ে কয়েক বছর যাবত বিভিন্ন পত্রিকা বা টিভি চ্যানেলে নিউজ করে থাকে।
ভান্ডারী মুলার চাষের ব্যপারে কৃষক মোঃ জসিম বলেন আমরা প্রতি বছর কার্তিক মাসের মাঝামাঝি এর বীজ বপন করে থাকি মাঘ মাসের ১০ তারিখ মাইজভান্ডার দরবার শরীফে ওরশের দিন ক্ষেত থেকে তুলে ওরশে বিক্রি করি। কৃষক মোঃ নজরুল, মোঃ মহি উদ্দিন, বাদশা আলম বলেন গত বছর অনেক ভান্ডারী মুলার চাষ করেছি ন্যাযমূল্য না পেয়ে এই বছর কম চাষ করেছি। আসলে পাহাড়ি ঢলে নেমে আসে পলিতে এই মুলার চাষ ভাল হয়। প্রতি বছর আমরা এই মুলার চাষ করে থাকি। গত বছর দাম ভাল পাওয়ায় যানি তাই এই বছর ১০ গন্ডা(২০শত) করেছি।কেহ কেহ ৪০ শত বা ৬০/৭০ শতক পর্যন্ত চাষ করেছে। যদি সরকারি ভাবে সহযোগিতা পাই বা কুলষ্ঠোর বা হিমাগারে রাখার ব্যবস্হা হয় তা হলে আগামীতে আরো বেশি করে চাষ করা হবে।

