সাব্বির আহমেদ, ইবি প্রতিনিধি
চলছে মাহে রমজান। এই মাসে ধৈর্য আর সহনশীলতার পরিচয় দিতে রোজা রাখেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। দিন শেষে যে যার মতো করে ইফতার করেন তারা। তবে অনেকে পরিবার, বন্ধু-বান্ধব কিংবা আত্মীয়-পরিজনের সঙ্গে বসে ইফতার করেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিস্তীর্ণ সবুজ খেলার মাঠ। ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে গোল হয়ে বসে থাকতে দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। বসে একসাথে ইফতারের আনন্দ উপভোগ করেন শিক্ষার্থীরা। বন্ধু-বান্ধবদের মাঝে ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ দূর করে ইফতার আয়োজন যেন অন্যরকম এক বার্তা দেয়।
দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন খেলার মাঠ ও ভবনের ছাদে বাড়তে থাকে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে বসে পড়েন তাঁরা। উদ্দেশ্য আর কিছু নয়—একসঙ্গে ইফতার করা। কেউ শরবত বানাতে লেগে পড়েন; কেউ নেন ছোলা-মুড়ি মাখানোর দায়িত্ব।
শুধু ক্যাম্পাসের সবুজ মাঠে ইফতারি আড্ডা জমে ওঠে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসির সিঁড়ি, আজিজ হলের পুকুর ঘাট, শহীদ মিনার, এবং হলগুলোর ছাদেও আড্ডা জমে ওঠে ইফতার ঘিরে। ক্যাম্পাসজুড়ে বিরাজ করে অন্যরকম আনন্দ আবহ। ইফতার উৎসব চলতে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে।
শিক্ষার্থীদের আয়োজনের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগ, জেলা সমিতি এবং সংগঠনের পক্ষ থেকেও ইফতার আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীরাই আয়োজন করেন সবকিছুর। এরপর বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মিলে একসঙ্গে ইফতার করেন। তাদের মনেই হয় না যে তারা পরিবার থেকে দূরে কোথাও ইফতার করছেন। প্রতিদিন এমন পরিবেশেই ইফতারের আনন্দ উপভোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
ক্যাম্পাসে ইফতার করতে আসেন বিভিন্ন অনুষদের সাবেক শিক্ষার্থীরাও। ক্যাম্পাসের জীবনের আনন্দ নিয়ে কখনও সংগঠনের দাওয়াতে আবার কখনও বন্ধু-বান্ধবরা মিলে ইফতার করেন তারা। এ যেন প্রাণের মেলায় বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ।
ইফতার পরবর্তী সময়ে সন্ধ্যায় চলে আড্ডা। ঝাল চত্বর, জিয়া মোর, টং এর দোকানে এক কাপ চা এর সাথে চলে পুরোদমে আড্ডা। এবং কেন্দ্রীয় মসজিদ সবার অংশগ্রহণে তারাবির নামাজ।
ক্যাম্পাসের ইফতারকে কেন্দ্র করে সবসময় বাড়তি আমেজ থাকে নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে। প্রথম ক্যাম্পাস জীবনের ইফতার নিয়ে নবীন শিক্ষার্থী বলেন,পরিবার থেকে দূরে এটাই আমার প্রথম রমজান। শুরুতে একটু খারাপ লাগত, কিন্তু ক্যাম্পাসে সবার সঙ্গে একসঙ্গে ইফতার করতে বসলে সেই শূন্যতা আর থাকে না। এখানে বন্ধুরাই যেন পরিবার হয়ে গেছে। এই অভিজ্ঞতা সারাজীবন মনে থাকবে।

