মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীতে হয়রানী ও ক্ষতিগ্রস্থ করার লক্ষ্যে প্রতারণার মাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্যে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে নিলাম খরিদ সংক্রান্ত বায়নানামা দলিলে জবেদা নকলের কপি সৃজন করায় ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
জানা গেছে, রাজবাড়ী সদর উপজেলার গৌরিপুর গ্রামের তাইজুদ্দিন সরদারের গৌরিপুর মৌজায় ২৬ শতাংশ ভুমি বাবদে ১৯৬৩-৬৪ সালে জিকে নং সার্টিফিকেট মামলা দায়ের হয়। সার্টিফিকেট আদালত ১৯৬৪ সালের ৬ জানুয়ারী প্রকাশ্যে নিলামে উঠলে মোঃ আজাহার সরদার, মোঃ আবুল সরদার ১৮০ টাকা মূল্যে নিলাম ক্রয় করে। ১৯৬৮ সালের ১৫ অক্টোবর বায়নাপ্রাপ্ত হন এবং ১৯৬৮ সালের ২০ অক্টোবর ঢোল সহবৎযোগে দখলপ্রাপ্ত হন। ২০১৭ সালের ১৬ জুলাই রাজবাড়ী সহকারী জজ আদালতে একটি বাটোয়ারা মামলা দায়ের করে শাহজাহান সরদার গংরা। সেখানে দাখিলকৃত বায়নানামা জাল চ্যালেঞ্জ করে আদালতে জবাব দাখিল করেন। সত্বের দাখিলী বায়নানামাটি কর্তৃপক্ষের নিকট ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করলে ২০২২ সালের ১৯ অক্টোবর ফরিদপুর জেলা রেজিষ্ট্রার কার্যালয় ( রেকর্ড শাখা) একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। দাখিলকৃত জবেদা কপিটি ২০১০ সালের ২১ আগস্ট প্রদান করা, ওইদিনটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছিল। কপিটি ওই কার্যালয় থেকে সরবরাহ করা হয়নি। প্রতিবেদনের বিষয়টি জানতে পেরে মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেন। এদিকে, জাল হওয়ায় এ প্রেক্ষিতে রাজবাড়ী সদর উপজেলার গৌরিপুর গ্রামের মৃত আবুল সরদার ওরফে জাফর সরদারের স্ত্রী শুকুরজান (৬৮) বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর আমলী আদালতে রাজবাড়ী সদর উপজেলার গৌরিপুর গ্রামের তাইজুদ্দিন সরদারের ছেলে মোঃ শাহজাহান সরদার (৫৩), মেয়ে মোছাঃ হাজেরা খাতুন ওরফে ফেলি বিবি (৫৫) এবং শাহজাহান সরদারের ছেলে আজিজুল হাকিম (৩৩) কে আসামী করে গত ২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মামলা দায়ের করেন। বিচারক মামলাটি তদন্তপুর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য রাজবাড়ী অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে সত্যতা পেয়ে আদালতে গত ১৮ ডিসেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করেছেন সিআইডির এসআই মোঃ আশরাফুল ইসলাম।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজবাড়ী সিআইডির এসআই মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেন, শাহজাহান সরদার, মোছাঃ হাজেরা খাতুন ওরফে ফেলি বিবি এবং আজিজুল হাকিম পরস্পর যোগসাজসে শুকুরজানকে হয়রানী ও ক্ষতিগ্রস্থ করার লক্ষ্যে প্রতারণার অসৎ উদ্দেশ্যে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে গত ১৯৬৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর তারিখের নিলাম খরিদ সংক্রান্ত বায়নানামা দলিলের জবেদা কপি সৃজন করে। একই উদ্দেশ্য সাধনকল্পে ওই জাল বায়নানামা দলিলের জবেদা কপি দেওয়ানী মোকর্দ্দমায় সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দাখিল করাসহ অপরাধে সহায়তা করায় তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমানিত হয়েছে।

