ঢাকাবুধবার , ১১ মার্চ ২০২৬
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. জনপ্রিয় সংবাদ
  9. জাতীয়
  10. বিনোদন
  11. রাজধানী
  12. রাজনীতি
  13. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঝিনাইদহে মাসব্যাপী বিভিন্ন পেশা শ্রমজীবী রোজাদার ভাইদের জন্য ইফতার আয়োজন আসছে” ইয়ুথ সান”

admin
মার্চ ১১, ২০২৬ ১০:৫০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সৌভিক পোদ্দার, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি
১১.০৩.২০২৬
রমজান আমাদের শেখায় কীভাবে নিজের নফসের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হয়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবুল করুন। “রহমতের দশ দিন, মাগফিরাতের দশ দিন আর নাজাতের দশ দিন—সব মিলিয়ে রহমতে পরিপূর্ণ হোক আমাদের জীবন।”
বিকেলের শেষ আলো ফিকে হতে না হতেই মাইক হাতে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলেন এক তরুণ। তার কণ্ঠে ভেসে আসে আমন্ত্রণ। ভাই, ইফতার করে যান আজও আপনাদের জন্য ইফতারের আয়োজন আছে। এই কণ্ঠের মানুষটি ঝিনাইদহ শহরের গীতাঞ্জলি সড়কের ব্যবসায়ী সৌরেশ পোদ্দারের ছেলে সৌভিক পোদ্দার এর। সনাতন ধর্মাবলম্বী হয়েও রমজানজুড়ে শ্রমজীবী মুসলমান ভাই ঙবোনদের ইফতারের দাওয়াত দিয়ে চলেছেন তিনি। ধর্মের ভিন্নতা তাকে আলাদা করেনি। বরং মানবিকতার বন্ধনে যুক্ত করেছে পুরো শহরের সঙ্গে। তার কণ্ঠের আহ্বান যেন কেবল ইফতারের দাওয়াত নয়। এটি সম্প্রীতি, সহমর্মিতা আর ভালোবাসার ডাক।

শহরের ভ্যানচালক, রিকশাচালক, দিনমজুর যারা সারাদিন রোদে-ঘামে পরিশ্রম করেন, তাদের অনেকেই সময়মতো ইফতার করতে হিমশিম খান। সেই মানুষগুলোর মুখে হাসি ফোটাতেই সৌভিকের এই ব্যস্ততা। বিকাল থেকে শুরু হওয়া তার মাইকিং চলে ইফতারের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত।

এই আয়োজনের পেছনে রয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ইয়ুথ সান, ঝিনাইদহ’। শহরের ওয়াজির আলী স্কুল মাঠে রমজান মাসজুড়ে কয়েকশত নিম্নআয়ের নারী পুরুষের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইফকারে থাকে প্রতিদিন খেচুড়ি ও মুরগীর মাংস। কোন দিন আবার এর সাথে থাকে দুই পিচ খেজুর একটি চপ ও একটি বেগুনি।

ইফতার করতে আসা অনেক শ্রমজীবী মানুষের চোখেমুখে কৃতজ্ঞতার ছাপ স্পষ্ট দেখা যায়। কেউ বলেন, কাজ শেষে নিশ্চিন্তে এখানে এসে ইফতার করতে পারি। কেউ আবার বলেন, এই আয়োজন না থাকলে হয়তো অনেক দিন শুধু পানি দিয়েই রোজা ভাঙতে হতো।

আশরাফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রাম থেকে আমি শহরে কাজে এসেছিলাম কাজ শেষ করতে অনেক দেরি হয়ে যায়। ইফতারের আগে বাড়ি ফিরা সম্ভব হবে না। এমন সময় মাইকে স্কুল মাঠে ইফতারের আয়োজনের কথা শুনে এখানে ইফতার করতে এসেছি।

সৌভিক পোদ্দার বলেন, শ্রমজীবী মানুষগুলো সারাদিন কষ্ট করেন। তাদের একবেলা ইফতার করাতে পারলে ভেতরে একটা শান্তি পাই।সৌভিক পোদ্দার আরো বলেন,শুধু রমজান মাস নয় আপনার বাড়ির পাশের লোক প্রতিদিন ঠিক মতো খাইতে পাচ্ছে কিনা এটা খোঁজ নেওয়া আপনার নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আপনি আপনার বেঁচে যাওয়া খাবারটা রাস্তাই ফেলিয়ে দিচ্ছেন কিন্তু আপনার বাড়ির পাশে প্রতিবেশী সে না খেয়ে আছে সেটা কিন্তু আপনি দেখছেন না। আপনার বেঁচে যাওয়া খাবারটা আপনি আপনার বাড়ির পাশে প্রতিবেশী কে দিলে অন্তত সে পেট ধরে একটু খেতে পারবে। এটা কোনো দান নয়, এটা ভালোবাসা।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাকিবুল হাসান বাপ্পি জানান, ২০১৩ সালের ২১ মে ইয়ুথ সান পথ চলা শুরু করে। সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য কাজ করে আসছে। এই মাহে রমজানের মাস ব্যাপী ইফতার কার্যক্রম ছাড়াও করোনা কালীন সময়ে জনসচেতনতা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এছাড়াও দুর্গা পূজাতে পোশাক বিতরণ, বৃক্ষরোপন কার্যক্রম, রোহিঙ্গার ইসুতে পার্বত্য এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্প করেছে তামাক বিরোধী কার্যক্রম করেছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছি অন্তত রমজান মাসে শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়াতে। তাদের একবেলা ইফতার করাতে পারলে আমাদের কষ্ট সার্থক মনে হয়। তিনি বলেন, পুরো মাসি বেবি চলবে আমাদের এই আয়োজন। দুপুর হলে আমরা রান্নার কাজ শুরু করে দিই। এ কাজে আমাদের অনেক বন্ধুরা সহযোগিতা করে। নিজেদের অর্থ দিয়েই আমরা এই ইফতারের আয়োজন করে থাকি আবার কিছু ব্যক্তি আছেন তারা এ কাজে তাদের সাধ্যমত চাল ডাল দিয়ে শরিকও হন।