মোঃ আমিরুল হক, জেলা প্রতিনিধি, রাজবাড়ী ॥
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যস্ততম নৌ-রুট দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া। এ রুটে চলাচলকারী ফেরিতে ৩ তাসের ফাঁদে ফেলে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রী ও চালকদের সাথে প্রতারণা করে আসছে একটি চক্র। এ চক্রকে ধরতে ছদ্মবেশে অভিযান চালিয়ে জুয়ারী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ-পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় থানার তেঘুরী এলাকার মোঃ আকাশ (২৩) ও মোঃ রাসেল মুন্সি (৩৩) এবং রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বাহিরচর দৌলতদিয়া এলাকার জহির ওরফে জহু ফকির (৪২) ও মোঃ বাবু ফকির (৩৫)।
নৌ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাট থেকে পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া শাহপরাণ ফেরিতে ‘তিন তাস’ খেলার প্রলোভন দেখিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ফরিদপুর অঞ্চলের নৌ-পুলিশের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল-মামুনের নির্দেশনায় পাটুরিয়া নৌ-থানা ও দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির যৌথ টিম ছদ্মবেশে ফেরিতে ওঠে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে পাটুরিয়া নৌ-থানার ইনচার্জ (ওসি) পুলিশ পরিদর্শক কেএম নজরুল ইসলাম, পিপিএম এবং দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক ত্রিনাথ সাহার নেতৃত্বে এসআই গোলাম সরোয়ার, এসআই ইয়াকুব হোসেনসহ সঙ্গীয় ফোর্স অংশ নেয়। গভীর রাতে অভিযানে জুয়া খেলার সরঞ্জামসহ চারজন পেশাদার জুয়ারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় তাদের আরও দুই সহযোগী যাত্রীদের ভিড়ে মিশে পালিয়ে যায়।
দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মোঃ আকাশের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও জুয়া আইনে চারটি মামলা বিচারাধীন। রাসেল মুন্সির বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে তিনটি মামলা রয়েছে। জহির ওরফে জহু ফকিরের বিরুদ্ধে অস্ত্র, চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও জুয়া আইনে মোট ১০টি মামলা বিচারাধীন এবং বাবু ফকিরের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি সংক্রান্ত দুটি মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নৌ-পুলিশ বাদী হয়ে শিবালয় থানায় জুয়া আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করেছে। শনিবার সকালে গ্রেপ্তারকৃতদেরকে মানিকগঞ্জ আদালতের প্রেরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নৌ-পথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

