ঢাকামঙ্গলবার , ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. জনপ্রিয় সংবাদ
  9. জাতীয়
  10. বিনোদন
  11. রাজধানী
  12. রাজনীতি
  13. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সবাই দৌড়ায়, কিন্তু পথ সবার এক নয় — একজন নাট্যকর্মীর চোখে জীবনের মঞ্চ

admin
ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫ ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেখ মোবারক হোসাইন সাদী

নাট্যকর্মী | লেখক | গবেষক

মঞ্চে আলো জ্বলে উঠলেই নাটক শুরু হয়—
কিন্তু জীবনের নাটক শুরু হয় আলো ছাড়াই।
কেউ জানে না, কে কোন দৃশ্যে প্রবেশ করবে,
কে নায়ক হবে, কে হবে নীরব দর্শক।
জীবন আসলে এক বিশাল মঞ্চ।
এখানে প্রতিদিন দৃশ্য বদলায়,
সংলাপ বদলায়,
চরিত্র বদলায়—
কিন্তু অভিনয় থামে না।
এই মঞ্চে সবাই দৌড়ায়।
কেউ দৌড়ায় সামনে তাকিয়ে,
কেউ দৌড়ায় পেছনের ভয় বুকে নিয়ে।
কেউ দৌড়ায় জুতোর শব্দ তুলে,
কেউ দৌড়ায় খালি পায়ে—রক্ত মাখা পায়ের ছাপ রেখে।
মজার ব্যাপার হলো—
এই দৌড়ের শুরুর ঘণ্টা সবার জন্য একসঙ্গে বাজে না।
কেউ মঞ্চে ঢোকে প্রস্তুত পোশাকে,
সংলাপ মুখস্থ করে।
আর কেউ ঢোকে হঠাৎ করে—
কোনো মহড়া ছাড়াই,
কোনো নির্দেশনা ছাড়াই।
কেউ জন্মের পর থেকেই পায় আলো,
পায় ব্যাকস্টেজ,
পায় প্রশিক্ষিত সহশিল্পী।
তাদের ভুল করলে পরিচালক থামান,
আবার শুরু করান।
আর কেউ কেউ জন্মের পর থেকেই একা।
তাদের জন্য কোনো রিহার্সাল নেই,
কোনো দ্বিতীয় টেক নেই।
ভুল মানেই পতন,
পতন মানেই আবার উঠে দাঁড়ানোর যুদ্ধ।
আমি নাট্যকর্মী হিসেবে জানি—
সব চরিত্র সমান গুরুত্বপূর্ণ নয়,
কিন্তু প্রতিটি চরিত্র ছাড়া নাটক অসম্পূর্ণ।
ঠিক তেমনি জীবনেও—
সবাই নায়ক নয়,
কিন্তু সবার গল্প প্রয়োজন।
অনেক মানুষ আছে,
যাদের জীবনের দৃশ্য দ্রুত বদলায়।
এক দৃশ্যেই তারা সাফল্যের সংলাপ বলে ফেলে।
দর্শক করতালি দেয়,
আলো ঝলসে ওঠে।
আর কিছু মানুষ আছে,
যাদের জীবনে দীর্ঘ নীরব দৃশ্য।
কোনো সংলাপ নেই,
শুধু হাঁটা,
শুধু বোঝা টানা।
কিন্তু নাটক জানে—
নীরব দৃশ্যই অনেক সময় সবচেয়ে শক্তিশালী।
সেখানে চোখ কথা বলে,
শ্বাস কথা বলে,
নীরবতাই হয়ে ওঠে সংলাপ।
জীবন আমাদের প্রায়ই ভুল শেখায়—
আমরা ভাবি, যে সামনে আছে সে-ই সফল।
আমরা ভাবি, যে আলোয় আছে সে-ই গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু আমরা ভুলে যাই—
মঞ্চের পেছনের অন্ধকার ছাড়া আলো দৃশ্যমান হয় না।
জীবনের নাটকে সবচেয়ে কঠিন চরিত্রটি হলো—
নিজের মতো করে থাকা মানুষ।
যে মানুষ তুলনা করে না,
যে মানুষ অন্যের সংলাপ ধার করে না,
নিজের কণ্ঠেই কথা বলে।
এই মানুষগুলোই বারবার পড়ে যায়।
কারণ তারা জানে না অভিনয়ের ভান।
তারা জানে শুধু সত্য।
জীবন বারবার আমাদের ফেলে দেয়।
ঠিক নাটকের মতো—
একটি দৃশ্য শেষ হয় পতনে।
কিন্তু পরের দৃশ্য শুরু হয় উঠে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে।
নাট্যকর্মী হিসেবে আমি বিশ্বাস করি—
সবচেয়ে শক্তিশালী সংলাপ হলো—
যেটা কাঁপা গলায় বলা হয়,
কিন্তু বলা থামে না।
জীবনও তাই।
যে কাঁপে, সে দুর্বল নয়।
যে পড়ে, সে পরাজিত নয়।
যে উঠে দাঁড়ায়—
সে-ই আসল অভিনেতা।
শেষ দৃশ্য আসবে—
কিন্তু আমরা জানি না কখন।
আলো নিভে যাবে,
পর্দা নামবে।
তার আগে প্রশ্ন একটাই—
আমরা কি আমাদের চরিত্রটা সৎভাবে অভিনয় করেছি?
জীবনের নাটকে পুরস্কার নেই,
তালি নেই,
রিভিউ নেই।
শুধু থাকে একটিই হিসাব—
আমরা কি মঞ্চ ছেড়েছি মাথা উঁচু করে?

শেষ সংলাপ

জীবন জেতা মানে নায়ক হওয়া নয়।
জীবন জেতা মানে শেষ দৃশ্য পর্যন্ত মঞ্চে থাকা।
সংলাপ কম হোক,
আলো কম হোক—
কিন্তু উপস্থিতিটা সত্য হোক।
এইটুকুই যথেষ্ট।