মোঃ আমিরুল হক, জেলা প্রতিনিধি, রাজবাড়ী ঃ
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর বাজারে একটি জুয়েলার্স দোকানে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) গভীর রাতে বহরপুর ইউনিয়নের বহরপুর বাজারস্থ খান সুপার মার্কেটের মেসার্স নিউ মাতৃ জুয়েলার্স দোকানের সাটারের হুক কেটে এ চুরি সংঘটিত হয়।
দোকানটির স্বত্বাধিকারী শ্রী প্রদীপ কুমার পাল বহরপুর ইউনিয়নের চর-ফরিদপুর গ্রামের মৃত পবিত্র কুমার পালের ছেলে ও বহরপুর খান সুপার মার্কেটের জুয়েলারী ব্যবসায়ী।
দোকান মালিক জানান, দোকানের ভেতরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার লাইভ লোকেশনে ভোররাত আনুমানিক ৫টার দিকেও ডিসপ্লেতে থাকা রুপার গহনা দেখা যাচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে ভোর ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে যেকোনো সময়ে চোরেরা দোকানে ঢুকে চুরি করে।
তিনি আরও জানান, দোকানে সারানোর জন্য রাখা কিছু নাক ফুল ও স্বর্ণের কাটাই গুঁড়া মিলিয়ে আনুমানিক ১২ আনা স্বর্ণ, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া দোকানের ডিসপ্লে থেকে ৪৫ থেকে ৫০ ভরি রুপার গহনা যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার পর দেখা যায়, চোরেরা দোকানের ভেতরের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ মুছে দিয়ে গেছে এবং অন্যান্য ক্যামেরা ঘুরিয়ে ডিসপ্লেস করে রাখে, যাতে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা না যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, বাজারে রাতের পাহারাদারদের উপস্থিতি কম এবং দায়িত্বে গাফিলতির কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে। তারা বাজারের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, বিভিন্ন জায়গায় সুপার মার্কেটগুলোতে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে। অথচ বহরপুর বাজারের সর্ববৃহৎ খান সুপার মার্কেটে তাদের নিজস্ব কোন নিরাপত্তাকর্মী নেই। মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জোর দাবি করেন, মার্কেট মালিকদের পক্ষ থেকে নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেওয়ার জন্য।
বহরপুর বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল কালাম বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাসান আলী জানান, বাজারের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা রাত ১০ টা থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত নিরাপত্তার দায়িত্বে কাজ করে। এর পরের সময় কোন দুর্ঘটনা ঘটলে সেটা দেখার উপায় থাকে না। দীর্ঘদিন বহরপুর বাজারে কোন চুরির ঘটনা লক্ষ্য করা যায় না। হঠাৎ করেই এমন ঘটনা ঘটেছে। এটা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত।
ঘটনার খবর পেয়ে বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রব তালুকদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেন।
ওসি আরও জানান, চুরির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য ভুক্তভোগী দোকান মালিককে থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার বলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমাদের তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

