নিকলী প্রতিনিধি:
গ্রামীণ জনপদে সচেতনতা বৃদ্ধি ও উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিতে পথনাটক এখন এক কার্যকর মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে মানবিক উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান- পিপিইপিপি-ইইউ প্রকল্পের আওতায় ‘পদক্ষেপ, মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র’ সোমবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) নিকলীর কারপাশা ইউনিয়নের দুটি স্থানে দিনব্যাপী দুটি জনসচেতনতামূলক পথনাটক মঞ্চস্থ করে।
সকালে কারপাশা ইউনিয়নের একটি বাড়ির উঠানে প্রথম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেলে একই ইউনিয়নের সহরমূল গ্রামের আরেকটি বাড়ির উঠানে নাটকটির দ্বিতীয় প্রদর্শনী মঞ্চস্থ হয়। এর আগে রবিবার আরো দুটি নাটক মঞ্চস্থ হয় বলে জলজ থিয়েটারের সদস্যদের বক্তব্যের মাধ্যমে জানা যায়।
নাটকগুলো পরিবেশন করে নাট্যসংগঠন ‘জলজ থিয়েটার’, যারা দীর্ঘদিন ধরে TFD (Theatre for Development) ও TIE (Theatre in Education) পদ্ধতিতে কাজ করে আসছে। তাদের পরিবেশনায় উঠে আসে গ্রামীণ সমাজের নানা বাস্তব চিত্র—সরকারি সেবা গ্রহণের পদ্ধতি, স্বাস্থ্য সচেতনতা, নারী-পুরুষ সমতা, শিশু শিক্ষার গুরুত্ব এবং দারিদ্র্য নিরসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
নাটকগুলোতে স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়। দর্শকরা জানান, সহজ ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনার কারণে নাটকের বার্তাগুলো দ্রুত তাদের হৃদয়ে পৌঁছে যায়। বিশেষ করে নারীদের সক্রিয় উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়ক, তরুণ নাট্যনির্মাতা কিশোর মোশা বলেন,
“নাটক সমাজ পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। আমরা এনজিওদের সহযোগিতায় সচেতনতার বার্তা প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছি।”
জলজ থিয়েটারের সদস্যরা জানান, বিনোদনের পাশাপাশি নাটকের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সহজেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা গ্রহণ করতে পারে। তাই সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই তারা এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে ‘পদক্ষেপ’-এর কারিগরি কর্মকর্তা মো. ছাইদুল ইসলাম জানান, তাদের এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। সচেতনতামূলক কর্মসূচির পাশাপাশি তারা হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে হাঁস, মুরগি, গরু ও ছাগল বিতরণ করে স্বনির্ভরতা তৈরিতে সহায়তা করছে।
উল্লেখ্য, ‘পদক্ষেপ, মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র’ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুদ্রঋণ, সঞ্চয় কার্যক্রম ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের শাখা, প্রোগ্রাম অফিস ও লার্নিং সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে।
নাটক শেষে দর্শকদের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। আগতরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে আরও সচেতন ও উন্নত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে।
পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে এ আয়োজন গ্রামীণ মানুষের মাঝে এনে দিয়েছে বাড়তি আনন্দ ও বিনোদন, পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তাও পৌঁছে দিয়েছে।।

