মোঃ শামীম মিয়া, মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ

মানিকগঞ্জে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো গ্রাম বাংলার লোকজ ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক, ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে এ নৌকা বাইচ উপভোগ করেন।শনিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে সদর উপজেলার কালিগঙ্গা নদীতে আয়োজন করা হয় এই বর্ণাঢ্য প্রতিযোগিতার। নদীর তীরজুড়ে জমায়েত হয় প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ। বিশেষ করে, প্রায় তিন লক্ষাধিক দর্শক নদীর দুই পাড়ে অবস্থান নিয়ে উৎসবের অংশগ্রহণ করেন এবং নৌকা বাইচের অনবদ্য আনন্দ উপভোগ করেন। শিশু, বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ সবাই যেন ফিরে যান শেকড়ের সেই আনন্দঘন গ্রামীণ উৎসবে। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে দিনব্যাপী কাটান নদীর পাড়ের আনন্দময় পরিবেশেপ্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মানোয়ার হোসেন মোল্লা। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “নৌকা বাইচ আমাদের ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি শুধুমাত্র একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি আমাদের শেকড়, সংস্কৃতি ও মানুষের সামাজিক সম্প্রীতির প্রতীক। নৌকা বাইচ বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং মানুষের আত্মার সঙ্গে সম্পর্কিত এক অবিচ্ছেদ্য উৎসব। এই আয়োজন নতুন প্রজন্মকে বাংলার শেকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আমার প্রত্যাশা।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোছাঃ ইয়াসমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব ) মোহাম্মদ আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নাজমুল হাসান খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমতিয়াজ মাহমুদ, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খান রিতা, জামায়াতের ঢাকা উত্তর টিম সদস্য মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, জেলা আমীর হাফেজ মাওলানা কামরুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক শাহানুর ইসলাম প্রমুখ।এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় জেলার বিভিন্ন উপজেলার ঘাসি, পানসী, ছিপাসহ মোট ৩৫টি নৌকা দল। প্রতিটি দলে ছিল ৩০-৪০ জন মাঝি, যারা সমন্বিতভাবে নৌকা চালিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। নৌকাগুলোর নাম ছিল অত্যন্ত নান্দনিক ও ঐতিহ্যবাহী, যেমন- ‘সোনার তরী’, ‘তরঙ্গ’, ‘স্বাধীন বাংলা’, ‘চাচা-ভাতিজার নৌকা’ ইত্যাদি।প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। চ্যাম্পিয়ন দল পেয়েছে একটি মোটরসাইকেল, রানার-আপ দল পেয়েছে একটি রেফ্রিজারেটর, আর তৃতীয় স্থান অধিকারী দল পেয়েছে রঙিন এলইডি টেলিভিশন। এছাড়া সকল অংশগ্রহণকারী দলকে দেওয়া হয়েছে সনদ ও সান্ত্বনা পুরস্কার।নৌকা বাইচের সঙ্গে গ্রামীণ মেলার আয়োজনও ছিল। মেলায় ছিল হাওয়াই মিঠাই, মাটির পুতুল, খেলনার দোকান, পিঠা-পুলি, বাঁশি ও ঢোলের মধুর সুর।নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, স্বাস্থ্য বিভাগ ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

