সৌভিক পোদ্দার, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি
২৮.০৩.২০২৬
ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফেরার জন্য বাসে উঠেছিলেন নুরুজ্জামান। দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছে ৪(চার) বছরের মেয়ে নওয়ারা আক্তারকে নিয়ে বাস থেকে নামেন চিপস কিনতে। বাসেই বসিয়ে রেখে এসেছিলেন স্ত্রী আয়েশা আক্তারকে। তাঁর কোলে ছিল ৭ (সাত) মাসের ছেলে আরশান।
হঠাৎ নুরুজ্জামান দেখলেন, তাঁর সামনেই বাসটি নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে। এ দৃশ্য দেখে একটু দৌড় দেন। পরক্ষণেই থেমে যান তিনি। মুহূর্তের মধ্যেই তছনছ হয়ে যায় সাজানো সংসার।
ঝিনাইদহের শৈলকুপার কাঁচেরকোল ইউনিয়নের খন্দকবাড়িয়া গ্রামে বাড়ি নুরুজ্জামানের। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে ছিল সুনসান নীরবতা। নুরুজ্জামানের বাবা কামরুজ্জামান ঢাকার সাভারের নয়ারহাটের জন্য রওনা হচ্ছিলেন। সেখানে পুত্রবধূ আয়েশার বাবার বাড়ি। ওই বাড়িতেই ছেলেসহ তাঁকে দাফন করা হবে বলে জানান।
কামরুজ্জামানের দেওয়া তথ্যমতে, সাভার ও মিরপুরের সিআরপি হাসপাতালে চাকরি করতেন তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূ। সন্তানদের নিয়ে ঈদের কয়েকদিন আগে বাড়ি ফেরেন। বুধবার দুপুরে ঢাকার উদ্দেশে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটিতে উঠেছিলেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে।
নাতি-নাতনিকে বিদায় দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর শেষ বিকেলে মোবাইল ফোনে নুরুজ্জামানের কল পান কামরুজ্জামান। অপর পাশ থেকে কাঁদতে কাঁদতে ছেলে জানান, ‘আব্বা, আমার সব শেষ। আপনার বৌমা, আরশান পদ্মায় তলিয়ে গেছে।’
কামরুজ্জামানের সঙ্গে ওই ফোনালাপের সময়ই নুরুজ্জামান জানিয়েছিলেন চিপস কিনতে গিয়ে নিজে ও তাঁর মেয়ে নওয়ারার বেঁচে যাওয়ার কথা। ঘাটে দীর্ঘ অপেক্ষার পর বুধবার রাত ৩(তিন)টার দিকে বাসের ভেতরই পাওয়া যায় তাঁর স্ত্রী আয়শা ও ছেলে আরশানের লাশ।
স্বজনেরা জানান, প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে নুরুজ্জামান গ্রামের বাড়িতে ফিরে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করতেন। তাঁর ভাতিজা মোবাস্বির আহমেদ বলেন, চাচা-চাচি মিলেই এলাকাবাসীর জন্য এমন কাজ করতেন। এবার নিজেরা অসুস্থ থাকায় ক্যাম্প করতে পারেননি।
গত মঙ্গলবার রাতে আত্মীয় বুলবুল আহমেদের সঙ্গে কথা হয় নুরুজ্জামানের। তখন বলেছিলেন, ‘ভাগনে, আগামীকাল (বুধবার) চলে যাচ্ছি। দেখা হবে না।’

