নুরুল আবছার নূরী
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কার্যালয়ে ঢুকে এক উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে গালাগালি ও কার্যালয়ের সরঞ্জাম ভাঙ্গচুর করার অভিযোগ উঠেছে সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় নামের এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে।
এই দুঃসাহসী ছাত্রদল নেতার নাম সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়।সে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রদলের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সর্বশেষ চাকসু নির্বাচনে ভিপি পদপ্রার্থী ছিলেন।
৩০ মার্চ সোমবার বিকেলে ফটিকছড়ি উপজেলার এলজিইডি কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী আতাউল্লাহর কক্ষে গিয়ে হিসাব রক্ষক শয়ন বড়ুয়ার ফোন নম্বর চান। নম্বরটি দিতে কিছুটা দেরি হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সাজ্জাদ। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় উত্তেজিত হয়ে কার্যালয়ে থাকা একটি প্রিন্টার ভাঙচুর করেন এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। এতে করে অফিসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির তৈরি হয়। পরে অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবছার চৌধুরী বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি মঙ্গলবার বিকেলে উভয় পক্ষকে ডেকেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় ভাঙ্গচুরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “আমার এলাকার এক কর্মকর্তার ফোন নম্বর চাইলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী আতাউল্লাহ আমার সাথে অপেশাদার ও খারাপ আচরণ করেন। এ নিয়ে আমাদের মধ্যে কেবল কথা-কাটাকাটি হয়েছে। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যায়। প্রিন্টার ভাঙচুরের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলেও তিনি দাবি করেন।”
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, “এলজিইডি অফিসে একটি অপ্রীতিকর ঘটনার কথা আমি শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

