ঢাকারবিবার , ৫ এপ্রিল ২০২৬
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. জনপ্রিয় সংবাদ
  9. জাতীয়
  10. বিনোদন
  11. রাজধানী
  12. রাজনীতি
  13. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফটিকছড়িতে থামছে না জুয়া ও মাদকের আসর, নেপথ্যে ‘ম্যানেজ’ রাজনীতি ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট

admin
এপ্রিল ৫, ২০২৬ ৫:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় বিভিন্ন জায়গায় দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে অবৈধ জুয়া ও মাদকের কারবার। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা কথিত নেতা, অসাধু সংবাদকর্মী এবং প্রশাসনের এক শ্রেণির অসাধু লোকজনকে ‘ম্যানেজ’ করে নির্বিঘ্নে চলছে এসব সমাজবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড। প্রশাসনের মাঝেমধ্যে লোকদেখানো অভিযান চললেও মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।পজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার নির্জন বাগান, পাহাড়ের পাদদেশ এমনকি জনবসতিপূর্ণ এলাকার ক্লাবগুলোতেও বসছে নিয়মিত জুয়ার আসর। বিশেষ করে সুন্দরপুর, সুয়াবিল, ভুজপুর, নারায়ণহাট, দাঁতমারা, বাগানবাজার ও নাজিরহাট এলাকায় তাস, পয়সার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকার জুয়া খেলা হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব আসর থেকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট অংকের একটি মোটা টাকা স্থানীয় ‘প্রভাবশালী’ মহলের পকেটে যায়।সরেজমিনে সুয়াবিল-সুন্দরপুর সীমান্তে গিয়ে দেখা যায়- নাসির মোহাম্মদ ঘাটের পশ্চিম পাশে হালদা নদীর পাড়ে ৩টি অস্থায়ী ঘর বা আসর বানানো হয়েছে। এ আসর গুলোয় সকালে এবং বিকাল থেকে মাঝ রাত পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ টাকার জুয়া খেলা চলছে। ফটিকছড়ি এবং পার্শবর্তী হাটহাজারী উপজেলা থেকে বিভিন্ন বয়সী পুরুষ এ খেলায় মত্ত থাকেন।জুয়া খেলার পাশাপাশি এসব স্পটে অবাধে চলছে ইয়াবার কারবার। যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়লেও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ভয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় মোহাম্মদ নাজিম নামে ব্যক্তির নেতৃত্বে এসব অপকর্ম চলছে।ম্যানেজ কালচার ও কথিত সাংবাদিকদের ভূমিকা স্থানীয়দের দাবি, জুয়া ও মাদকের এই রমরমা ব্যবসার পেছনে কাজ করছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা নিজেদের ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা পরিচয় দিয়ে থাকেন। আরও অভিযোগ রয়েছে, কিছু নামধারী সংবাদকর্মী নিয়মিত এসব স্পট থেকে মাসোয়ারা তোলেন। এর বিনিময়ে তারা এসব অপকর্মের খবর গোপন রাখেন। এমনকি প্রশাসনের নিম্নপর্যায়ের কিছু সদস্যের সাথেও এসব কারবারিদের গোপন দহরম-মহরমের অভিযোগ উঠেছে।এলাকার সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকরা চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। জনৈক স্থানীয় বাসিন্দা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “আমাদের চোখের সামনে যুবসমাজ শেষ হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবাদ করলে উল্টো হুমকি-ধমকি এবং হামলার শিকার হতে হয়। প্রশাসন জানে সব, কিন্তু পদক্ষেপ কোথায়?”এ বিষয়ে ফটিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ সেলিম বলেন- জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। আমরা খবর পাওয়া মাত্রই অভিযান চালাচ্ছি। এ ব্যাপারে কাউকেউ ছাড় দেয়া হবেনা।ফটিকছড়ির এই বিষবাষ্প থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে কেবল লোকদেখানো অভিযান নয়, বরং নেপথ্যের গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা জরুরি বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা।