ঢাকারবিবার , ৫ এপ্রিল ২০২৬
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. জনপ্রিয় সংবাদ
  9. জাতীয়
  10. বিনোদন
  11. রাজধানী
  12. রাজনীতি
  13. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজবাড়ীতে দু’টি কিডনি নষ্ট—বাঁচতে চান ভ্যানচালক শরিফুল

admin
এপ্রিল ৫, ২০২৬ ৫:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি ঃ

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় বসবাসরত এক হতদরিদ্র পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি শরিফুল ইসলাম (৩০) এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তার দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। চিকিৎসা চালিয়ে যেতে না পারায় অসহায় এই মানুষটি এখন সমাজের সহৃদয় ও বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করছেন।

শরিফুল ইসলাম শেখ, পিতা মোঃ জাবেদ আলী শেখ, বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের দিলালপুর গ্রামে। পেশায় তিনি একজন ভ্যানচালক এবং পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। প্রায় ৮ থেকে ৯ মাস আগে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিলেও পরে দেখা দেয় প্রস্রাবজনিত জটিলতা। পরবর্তীতে ফরিদপুরে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়—তার দুটি কিডনিই সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত।

চিকিৎসকরা জানান, শরিফুলকে বাঁচাতে নিয়মিত ডায়ালাইসিস ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন। বর্তমানে তাকে প্রতি সপ্তাহে দুই দিন ডায়ালাইসিস করাতে হয়, যার খরচ প্রায় ৮ হাজার টাকা। কিন্তু দিনমজুর পরিবারের এই বিপুল ব্যয় বহন করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

শরিফুল জানান, চিকিৎসার খরচ জোগাতে ইতোমধ্যে তার বাড়ির গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন তিনি সম্পূর্ণ নিঃস্ব। তার স্ত্রী মোছাঃ তাজমিনা আক্তার (২৬) শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। তাদের একমাত্র মেয়ে সামিয়া আক্তার সাফা (৬) প্লে-গ্রুপে পড়াশোনা করছে এবং ছোট ছেলে মোঃ আদিব শেখ (২) এখনো শৈশবেই রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “আমি বাঁচতে চাই। কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা চালাতে পারছি না। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষজন যদি একটু সাহায্যের হাত বাড়ান, তাহলে হয়তো আমি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব।”

চাচাতো ভাই মোঃ কালাম শেখ বলেন, “শরিফুল আমার চাচাতো ভাই। খুব পরিশ্রমী মানুষ ছিল, ভ্যানচালিয়ে পরিবার চালাত। এখন ওর এই অবস্থা দেখে খুব কষ্ট লাগে। আমরা নিজেরা যতটুকু পারছি সাহায্য করছি, কিন্তু এই ব্যয় আমাদের পক্ষে বহন করা সম্ভব না। সমাজের সবাই যদি একটু এগিয়ে আসে, তাহলে হয়তো ওকে বাঁচানো সম্ভব।”

চাচা আব্দুল মজিদ শেখ বলেন, “শরিফুল ছোটবেলা থেকেই সংগ্রামী। নিজের পরিশ্রমে সংসার চালিয়েছে। এখন আল্লাহর এমন পরীক্ষায় পড়ে গেছে। একজন অভিভাবক হিসেবে আমি খুবই অসহায় বোধ করছি। সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে অনুরোধ ওর চিকিৎসার জন্য সাহায্যের হাত বাড়ান।”

প্রতিবেশী আছিয়া বেগম বলেন, “শরিফুল খুব ভালো মানুষ। সব সময় মানুষের উপকার করতো। আজ সে নিজেই সাহায্যের মুখাপেক্ষী। ওর পরিবারটাও অনেক কষ্টে আছে। ছোট ছোট বাচ্চাগুলোর দিকে তাকালে খুব মায়া লাগে। আল্লাহর ওয়াস্তে সবাই যদি একটু সাহায্য করেন, তাহলে পরিবারটা বাঁচতে পারে।”

প্রতিবেশী পলি বেগম বলেন, “ওদের সংসারের অবস্থা খুব খারাপ। শরিফুল অসুস্থ হওয়ার পর থেকে ঘরে ঠিকমতো খাবারও জোটে না। আমরা প্রতিবেশীরা মাঝে মাঝে সাহায্য করি, কিন্তু এটা যথেষ্ট না। সবাই যদি এগিয়ে আসে, তাহলে ওর চিকিৎসা চালানো সম্ভব হবে।”

বাবা জাবেদ আলী শেখ বলেন, “শরিফুল আমার একমাত্র ছেলে। ও-ই ছিল আমাদের পরিবারের ভরসা। এখন ছেলেকে এই অবস্থায় দেখে বুকটা ফেটে যায়। আমি একজন অসহায় বাবা, ছেলের চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই। দেশবাসীর কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করি, আপনারা আমার ছেলেকে বাঁচাতে সাহায্য করুন।”

উল্লেখ্য, শরিফুল ইতোমধ্যে বালিয়াকান্দি উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরে সহায়তার জন্য আবেদন করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাননি বলে জানিয়েছেন।
মানবিক এই সংকটে শরিফুল ইসলামের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম “শরিফুল ইসলামের মতো একজন পরিশ্রমী মানুষ আজ গুরুতর অসুস্থ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক। তার পরিবারের বর্তমান অবস্থা আমাদের সবাইকে ব্যথিত করে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবো এবং সে সহায়তার জন্য আবেদন করলে তাকে সরকারি সহায়তার আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।আমি সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাই আপনারা যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসুন। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সকলের দায়িত্ব।আশা করি, সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় শরিফুল ইসলাম যথাযথ চিকিৎসা পেয়ে সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবেন।”