ঢাকাসোমবার , ৬ এপ্রিল ২০২৬
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. জনপ্রিয় সংবাদ
  9. জাতীয়
  10. বিনোদন
  11. রাজধানী
  12. রাজনীতি
  13. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাঘাইছড়িতে সরকারি হাসপাতালে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিতরণের অভিযোগ: ৫ বছরের শিশুর জীবন ঝুঁকিতে

admin
এপ্রিল ৬, ২০২৬ ১১:৩১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

‎বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি-


‎রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার নামে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিতরণের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের স্টোর থেকে ৫ বছর বয়সী এক শিশুকে দেওয়া সিরাপের মেয়াদ অন্তত সাত মাস আগেই শেষ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

‎ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ মুসলিম ব্লক ইমাম পাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মাসুদের ৫ বছর বয়সী ছেলে মোঃ ইসহাক হোসেনকে অসুস্থ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দেখার পর হাসপাতাল থেকে একটি ‘সেটিরিজিন সিরাপ’ প্রদান করা হয়। বাড়িতে গিয়ে শিশুটির বাবা লক্ষ্য করেন, সিরাপটির গায়ে মেয়াদের তারিখ ছিল ২০২৫ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত। অথচ বর্তমানে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস চলছে। অর্থাৎ মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত সাত মাস পর শিশুটিকে এই ওষুধ দেওয়া হয়েছে।

‎শিশুটির পিতা মোঃ মাসুদ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, ভালো চিকিৎসার আশায় সরকারি হাসপাতালে যাই। কিন্তু সেখানে যদি মেয়াদোত্তীর্ণ বিষ দেওয়া হয়, তবে আমরা কোথায় যাব? আমার সন্তানের কোনো ক্ষতি হলে এর দায় কে নেবে? এছাড়া হাসপাতালে নিয়মিত ডাক্তারও পাওয়া যায় না।” ওষুধটি সেবনের পর শিশুর কোনো দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হবে কি না, তা নিয়ে পুরো পরিবার এখন চরম দুশ্চিন্তায় ভুগছে।

‎এ বিষয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. আকিক দে-র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি শুরুতে অভিযোগটি অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, ওষুধটি সম্ভবত হাসপাতাল থেকে দেওয়া হয়নি। তবে প্রতিবেদক যখন পাল্টা প্রশ্ন করেন যে, সরকারি এই ওষুধ বাইরে বিক্রির নিয়ম নেই—তখন তিনি সুর পাল্টে বলেন, “হয়তো অভিযোগকারীর বাড়িতে আগের কোনো পুরনো ওষুধ ছিল।” তবে বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হওয়ায় তিনি আরও জানান, “আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি। স্টোররুমে কোনো মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ মজুত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে কর্মীদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

‎সচেতন মহলের মতে, সরকারি হাসপাতালের স্টোরে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ থাকা এবং তা রোগীর হাতে পৌঁছানো চরম দায়িত্বহীনতার প্রমাণ। এটি সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার শামিল। স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।