নুরুল আবছার নূরী
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা ভুজপুর থানার ভুজপুর ন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ চেয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন ভূজপুর ন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা।
৬ এপ্রিল সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিমের নিকট এ স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, চলতি শিক্ষাবর্ষে মোট ৮৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকলেও মাত্র ২০ জনকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ৬৩ জনকে বিভিন্ন অজুহাতে বঞ্চিত করা হয়েছে। এতে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বর্তমানে আরও ৩১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আগ্রহী বলে জানানো হয়।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, টেস্ট পরীক্ষায় ইচ্ছাকৃতভাবে নম্বর কম দিয়ে অনেককে ফেল দেখানো হয়েছে। পুনরায় টেস্ট দেওয়ার আবেদন জানালে প্রধান শিক্ষক গড়িমসি করেন এবং পরবর্তীতে তা প্রত্যাখ্যান করেন। এমনকি ফলাফল নিয়ে আপত্তি জানিয়ে খাতা দেখার দাবি করা হলেও সেটিও উপেক্ষা করা হয়। এ বিষয়ে প্রশ্ন তুললে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অমানবিক ও আক্রমণাত্মক আচরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। পাশাপাশি নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষার্থীকে অনুপস্থিত দেখিয়ে অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগও তোলা হয়।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা ঢাকতে শিক্ষার্থীদের বলি দেওয়া অনৈতিক। তারা সকল যোগ্য শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
স্মারকলিপি গ্রহণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন। তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং স্থানীয় ৪ নম্বর ভূজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন।
এসময় উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিলেন তাছরিন আক্তার, তাসমিনা সুলতানা ইভা, উম্মে সুমাইয়া, জয়নাব খানম আফরা, শ্রাবন্তী দে, বর্ষা নাথ, সাইকা আক্তার, নাজিরা বিন্তে, ঐশী বড়ুয়া, সায়েদা আক্তার স্বপ্না, রওশন আরা, মাহবুবা খানম, রিনা আক্তার বৃষ্টি প্রমুখ।
শিক্ষার্থীরা দ্রুত ন্যায়সঙ্গত সমাধান প্রত্যাশা করে বলেন, তাদের এই ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করা হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হতে পারে।

