সৌভিক পোদ্দার, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি
১৭.০২.২০২৬
স্বাধীন বাংলাদেশের কৃতি সন্তান হিসেবে প্রথম পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এডভোকেট মোঃ আসাদুজ্জামান। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজাই নবগঠিত মন্ত্রিসভার ৪৯ জনকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মোঃ শাহাবুদ্দিন। এ মন্ত্রীসভায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ১৯৭১ সালের ৩১ জানুয়ারি শৈলকুপার বারইপাড়ার একটি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম শেখ মো. ইসরাইল হোসেন এবং মাতার নাম মোছা. রোকেয়া খাতুন। শৈলকুপার বারইপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মো. আসাদুজ্জামানের শিক্ষাজীবন শুরু হয়। এরপর ১৯৮৭ সালে যশোর বোর্ডের অধীনে শৈলকুপা পাইলট স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৮৯ সালে শৈলকুপা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৮৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন এবং কৃতিত্বের সঙ্গে এলএলবি. (সম্মান) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে (১৯৮৯-১৯৯৪) জাসদ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ১৯৯৪ সালে জাসদ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক হন।
তিনি ১৯৯৫ সালে আইনজীবী হিসেবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত হন এবং ১৯৯৬ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিসের অনুমতি পান। ১৯৯৭ সালে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য পদ গ্রহণ করেন। আইনজীবী হিসেবে তিনি কর্মজীবনের শুরুতে সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন আইনজীবী ও পরবর্তীতে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের সঙ্গে কাজ করেছেন। ১৯৯৮ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথিতযশা আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের জুনিয়র হিসেবে যোগদান করেন এবং দীর্ঘদিনের সাহচর্যে ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক প্রতিষ্ঠিত ‘ল’ চেম্বারের একজন পার্টনার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০০৫ সালে তিনি আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ২০২৪ রাষ্ট্রপতির আদেশে তিনি বাংলাদেশের ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান। সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন শেষে ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে তিনি পদত্যাগ করেন।
তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত। তার স্ত্রীর নাম শিরীন সুলতানা। তাদের অঞ্জলি জামান ও অধরা জামান নামে দুই কন্যাসন্তান রয়েছে।

