ফটিকছড়ি প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা-তে সম্প্রতি ছাত্র সংগঠন সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম ও শোডাউন ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে গোপন বৈঠক ও সমাবেশের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ মার্চ দক্ষিণ ফটিকছড়ির একটি স্কুল মাঠে কয়েকজনকে একত্রিত হয়ে শ্লোগান দিতে দেখা যায়। ব্যানারে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-এর নাম ব্যবহার করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার নামে শ্লোগান দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এর আগে ভূজপুরের আছিয়া চা বাগান এলাকাতেও একাধিকবার বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও বাংলাদেশ যুবলীগ-এর গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। এসব বৈঠকে স্থানীয় এক সাবেক জনপ্রতিনিধি এবং সম্প্রতি আর্থিকভাবে প্রভাবশালী হয়ে ওঠা এক ব্যক্তির অর্থায়নের অভিযোগও শোনা যাচ্ছে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ মুখ খোলেননি।
এদিকে ঈদের পরদিন ২ নম্বর দাঁতমারা ইউনিয়নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থানীয় সভাপতির বাড়িতে ছাত্রলীগের বৈঠক হয়েছে—এমন অভিযোগ ঘিরেও এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
তথ্য অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, পলাতক অবস্থায় থাকা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর কয়েকজন স্থানীয় নেতা ও বিতর্কিত ব্যক্তির নাম আলোচনায় এসেছে। তাদের মধ্যে আবু তৈয়ব, নাজিম উদ্দীন মুহুরী, তৌহিদুল আলম বাবু এবং সাবেক সংসদ সদস্যের পরিবারের এক সদস্য ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফটিকছড়ির বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের গোপন বৈঠক ও সংগঠন সক্রিয়তার খবর পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে। ফলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

