মোঃ গোলাম রব্বানী, স্টাফ রিপোর্টার্স
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই রূপসা উপজেলায় বইতে শুরু করেছে আসন্ন উপজেলা নির্বাচনের হাওয়া। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে স্থানীয় সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা কৌশলী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিশেষ করে রূপসায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও খেলাফত মজলিসের সরব উপস্থিতিতে রাজনৈতিক মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে তিন নেতা
দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকলেও রূপসা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির তিন প্রভাবশালী নেতার নাম ব্যাপকভাবে আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন:
শেখ আব্দুর রশিদ: খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা। তিনি দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত সৈনিক হিসেবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের আস্থায় রয়েছেন।
আতাউর রহমান রানু: খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রনেতা। আন্দোলন-সংগ্রামে একাধিকবার কারাবরণ করা এই নেতা ছাত্রদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
মোঃ জাবেদ হোসেন মল্লিক: রূপসা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সাবেক ছাত্রনেতা। ১৯৮৭ সাল থেকে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে শুরু করে বর্তমানে উপজেলা বিএনপির অন্যতম সাংগঠনিক শক্তি হিসেবে তিনি পরিচিত।
উক্ত তিন নেতাই সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন এবং তৃণমূলের সমর্থন নিয়ে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
মাঠে সক্রিয় জামায়াত ও খেলাফত মজলিস
বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও খেলাফত মজলিসও। দল দুটির একক প্রার্থী নির্বাচনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন:
হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ জোবায়ের: খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক তিনবারের উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান। অভিজ্ঞ জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক পরিচিত।
মোঃ লবিবুল ইসলাম: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রূপসা উপজেলা শাখার আমীর। তিনিও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিয়মিত জনসংযোগ ও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
নির্বাচনী প্রচারণা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
সম্ভাব্য প্রার্থীরা ঈদ শুভেচ্ছা সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন এবং সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষ করে ফেসবুকে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকা, এলাকার উন্নয়ন এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারা ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন। যদিও বিএনপি দলীয়ভাবে নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়, তবুও তৃণমূলের চাপ এবং স্থানীয় জনপ্রিয়তা বিবেচনায় প্রার্থীরা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে কোনো কমতি রাখছেন না।
রূপসার সচেতন ভোটাররা মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে সব পক্ষ অংশ নিলে এক জমজমাট লড়াইয়ের সাক্ষী হবে এই উপজেলা।

