ঢাকাসোমবার , ৩০ মার্চ ২০২৬
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. জনপ্রিয় সংবাদ
  9. জাতীয়
  10. বিনোদন
  11. রাজধানী
  12. রাজনীতি
  13. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নানা সমস্যার জর্জরিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মিলছে না স্বাস্থ্যসেবা

admin
মার্চ ৩০, ২০২৬ ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সৌভিক পোদ্দার, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি
৩০.০৩.২০২৬
নানা সমস্যায় জর্জরিত ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। রোগমুক্তির আশায় শত শত রোগী হাসপাতালটিতে ছুটে এলেও সেখানে মিলছে না কাঙ্খিত সেবা। অব্যবস্থাপনা, অবহেলা এবং চিকিৎসকসহ লোকবল সংকটে এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ভারতীয় সীমান্তবর্তী মহেশপুর উপজেলার চার লাখ মানুষের চিকিৎসার জন্য একমাত্র সরকারি হাসপাতালটিতে চরম জনবল সংকট রয়েছে।

২৫ (পঁচিশ ) জন চিকিৎসা কর্মকর্তার বিপরীতে বর্তমানে রয়েছে মাত্র ১৪(চৌদ্দ) জন, যাদের অনেকেই আবার প্রেষণে রয়েছেন। ৩৫(পয়ত্রিশ) জন নার্সের মধ্যে ৩৪ কর্মরত থাকলেও তাদের অধিকাংশই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে সময় দেন পাশের ক্লিনিকে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ১০(দশ) জনের বিপরীতে একজনও নেই হাসপাতালটিতে। এছাড়া আয়া ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে বর্তমানে কেউ কর্মরত নেই।

এদিকে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে অস্ত্রোপচার। ফলে চিকিৎসা নিতে এসে রোগীদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।

সরেজমিনে হাসপাতালটিতে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগের সামনে রোগীদের ভীড়। চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও যন্ত্রপাতির অভাবে চিকিৎসাসেবা মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে।

হাসপাতালের একমাত্র অপারেশন থিয়েটারটি বন্ধ। শৌচাগারগুলো অস্বাস্থ্যকর।
গুড়দহ এলাকা থেকে নাজমুন নাহার নামের এক নারী তার অন্তঃস্বত্ত্বা মেয়েকে নিয়ে এসেছিলেন হাসপাতালে। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ের জরুরি সিজার করতে হবে। এখানে এসে জানতে পারলাম অপারেশন থিয়েটার বন্ধ।

এখন বাধ্য হয়ে যশোরে নিয়ে যেতে হবে।’
ষাটোর্ধ্ব আইয়ুব আলী বলেন, ‘পায়ের পুরনো ব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলাম। সকাল থেকে দুপুর ১২(বার) টা পর্যন্ত বসে আছি। দেখি কোনো ডাক্তার আসেন না। পরে জানতে পারলাম এই হাসপাতালে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নাই।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় গত দুই বছর ধরে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সব ধরনের অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে। গুরুতর রোগীরা বাধ্য হয়ে যশোর-খুলনাসহ বিভিন্ন জেলার হাসপাতালে গিয়ে অস্ত্রোপচার করাতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়া ওষুধ সংকট রয়েছে। অধিকাংশ রোগীকে বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে হয়। শুধু জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দিয়ে রোগীদের বাইরের হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি এই হাসপাতালটিতে রয়েছে সঙ্ঘবদ্ধ দালাল চক্র। চক্রটির সদস্যরা উন্নত চিকিৎসার কথা বলে রোগীদের বাইরের প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি হতে বাধ্য করে। সম্প্রতি দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ে ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি মেহেদী হাসান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনার অভাব, দুর্নীতি ও জবাবদিহিতার সংকটের কারণে আমাদের উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালটির এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও তা তা ব্যবহারের উপযোগী নয় বার দক্ষ জনবল না থাকায় সেগুলো অচল হয়ে পড়ে আছে। সংশ্লিষ্টদের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হেলেনা আক্তার বলেন, ‘সীমান্ত এলাকা বলে অনেক সময় এখানে চিকিৎসকেরা থাকতে চান না। এর পরও আমরা রোগীদের সাধ্যমতো সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি।’ তিনি বলেন, ‘কিছু সমস্যা রয়েছে তবে তা শিগগিরই সমাধান করা হবে।’

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে সরেজমিনে গিয়ে যেসব সমস্যা রয়েছে তা দেখে সমাধান করব।’