মোঃ জাবেদ আহমেদ জীবন
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া
ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার নবীনগর উপজেলার নবীনগর সদরে অবস্থিত আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল চান সচেতন মহল।
১০ এপ্রিল শুক্রবার হঠাৎ দেখা যায় মাইকের মাধ্যমে আহমেদ হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসা সেবা দিবেন এমন মাইকিং সচেতন মহলে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়, এ সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাইকিং এর ভিডিও ছড়িয়ে পরতে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়, সচেতন নাগরিকরা জানান তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জানানোর আগেই তাদের এমন প্রচারণা ঠিক হইনি আমরা এই হসপিটাল টির লাইসেন্স কয়েক মাসের জন্য স্থগিত চাই,পাশাপাশি বাকী প্রাইভেট হাসপাতাল গুলোর চিকিৎসা সেবার মান যাচাই করা সহ প্রতি মাসে মনিটরিং করার আহবান জানাই প্রশাসনের প্রতি, জিনদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা খায়রুল ইসলাম বলেন আহমেদ হসপিটালের লাইসেন্স বাতিল চাই, এই হাসপাতাল টি বহু মানুষের জীবন প্রদিপ নিভিয়ে দিয়েছে, হুরুয়া,ইব্রাহিম পুর,বাঙ্গরা, লাউরফতেহ পুর সহ কয়েকটি গ্রামের একাদিক মানুষ চিকিৎসা সেবা নিয়ে ভোগান্তির শিকার হয়েছে বলে জানান, রুবি আক্তার নামে এক রোগী জানান আমার সিজার করার পর হঠাৎ পেটের সেলাই এর জায়গা দশ দিন পর ছিড়ে রক্ত বের হওয়া শুরু করে, আমি ঐ হাসপাতালে গেলে হাসপাতালের লোকজন আমাকে আরো ৩/৪ দিন ঐ হাসপাতালে রেখে আবার চিকিৎসা করে পরে অবস্থা খারাপ হলে আমি কুমিল্লা গিয়ে চিকিৎসা নেই আমার দুই লাখ টাকা লেগেছিল পরে হাসপাতালের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা দেয় এই আহমেদ হাসপাতালে কোন চিকিৎসা নেই বাহির থেকে চিকিৎসক এনে চিকিৎসা দেন,কাঠালিয়া গ্রামের সুমা জানান আমার পেটে গজ রেখে ই সেলাই করে ফেলে পরে কুমিল্লা গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে ভালো হয়, ফতেহপুর গ্রামের পুস্প আক্তার জানান আমাকে ভর্তি করানোর পর কয়েকজন নারী পুরুষ এসে চিকিৎসা দেয় রক্ত বন্ধ হচ্ছিল না,পরে আমার পরিবার কে ডেকে বলেন তাড়াতাড়ি কুমিল্লা নিয়ে যান, এই হাসপাতালে কোন চিকিৎসা নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেক ই বলেন আহমেদ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ভালো না, জিনদপুরের জামাল মেম্বার বলেন আমার এলাকার অনেক লোকজন এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন তবে বেশীর ভাগ ই ভালো চিকিৎসা পান নি, কয়দিন আগে তো এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে আমি চাই আহমেদ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হোক, জামাল মেম্বার এর মতো বিল্লাল হোসেন, শামিম আহমেদ, রবিউল হোসেন, ফিরোজ আহমেদ, মিজানুর রহমান, হাবিবুর রহমান সহ অনেকের মতে আপাতত আহমেদ হাসপাতাল টির লাইসেন্স স্থগিত করা হোক, পরে যদি ভালো চিকিৎসা সেবা দেওয়ার মতো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, নার্স দিয়ে প্রশাসনের তদারকির মাধ্যমে সফল হয়, তখন আহমেদ হসপিটাল পূনরায় চালু হোক, এই মুহূর্তে আবার চালু হলে রাকিবার মতো আরো অনেক মেয়ে কে জীবন দিতে হবে।
এ বিষয় এ ইউএনও মাহমুদুল হাসান জানান বিষয় টি ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সিভিল সার্জন এর বিষয় যেহেতু একটি তদন্ত কমিটি কাজ করছেন উনাদের রিপোর্ট অনুযায়ী সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে আমাদের সহযোগিতা চাইলে আমরা তখন প্রয়োজনীয়া ব্যবস্হা নিতে পারবো, এখন থেকে আমাদের নিয়মিত মনিটরিং চলবে, এ বিষয় এ ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সিভিল সার্জন ডা.মোঃ নোমান মিয়া জানান তদন্ত কমিটি তদন্ত করে এসেছেন যদি তদন্তে আমাদের ডাক্তারের কোন গাফিলতি কিংবা হাসপাতালের কোন গাফিলতি থাকে সেই অনুযায়ী ব্যবস্হা গ্রহন করা যাবে, তবে যদি প্রসূতির পরিবার আইনি সহযোগিতা নিতেন তাহলে বিষয় টি আরো কঠিন ভাবে ব্যবস্হা নিতে পারতাম, যদিও প্রসূতির পরিবার হসপিটালের সাথে বিষয় টি সমাধান করে ফেলছেন শুনেছি, তবে এই হাসপাতালের বিষয় এ আমাদের তদারকি থাকবে যেন এরকম ঘটনা আর যেন না ঘটে এ বিষয়ে হসপিটাল কর্তৃপক্ষ কে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ধারা চিকিৎসা সেবা দেয় এই রকম শর্ত থাকবে, যদি তদন্ত কমিটি তাদের গাফিলতি পান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এ বিষয় এ আহমেদ হাসপাতালের কোন কর্মকর্তা এ বিষয় এ কোন মন্তব্য করতে না চাওয়ায় বিস্তারিত জানা যায় নি।

