ঢাকাশনিবার , ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. জনপ্রিয় সংবাদ
  9. জাতীয়
  10. বিনোদন
  11. রাজধানী
  12. রাজনীতি
  13. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

“শেকর সন্ধানী গবেষক ও সাংবাদিক জামাল উদ্দিন”

admin
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৫ ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নুরুল আবছার নূরী,ফটিকছড়ি,চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রামের প্রবিন সাংবাদিক ও গবেষক জামাল উদ্দিনকে নিয়ে আরেক সাংবাদিক মোঃ কামাল উদ্দিন স্মৃতি চারণ ও শ্রদ্ধাভরাত আলোকপাত।

আজ বলাকা প্রকাশনায় দীর্ঘ সময় ধরে ইতিহাস নিয়ে কথা বলার সুযোগ হলো জামাল উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি নিছক একজন সাংবাদিক নন—তিনি একজন জীবন্ত ইতিহাস, এক অনবরত শেকড়সন্ধানী গবেষক। তাঁর সংগ্রহ করা তথ্য-উপাত্ত, অসংখ্য অজানা ঘটনার খোঁজ আর নিখুঁত অনুসন্ধানী দৃষ্টিভঙ্গি সত্যিই বিস্ময়কর। আজকের এই আলোচনায় আমি যেন আবারও শিখলাম ইতিহাসের পাঠ, জানলাম চট্টগ্রামের মাটির বুক থেকে উন্মোচিত হাজার বছরের অজানা অধ্যায়।

জামাল উদ্দিন সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতার দায়বদ্ধ কলম সৈনিক। অসত্য, অসুন্দর ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে তাঁর কলম খোলা তরবারি হয়ে ওঠে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে কিশোর বয়সেই তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন—বারুদ বহন করেছেন, আশ্রয়প্রার্থীদের সেবা দিয়েছেন, রাত জেগে পাহারা দিয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁর মননে বপন করেছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার চারা, যা আজও তাঁর প্রতিটি কর্মে প্রেরণার উৎস।

১৯৫৯ সালের ৮ মে আনোয়ারার শিলাইগড়া গ্রামে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি কৈশোরেই প্রগতিশীল চিন্তার বীজ বপন করেন। ছাত্র ইউনিয়নের ভাবধারায় রাজনীতি শুরু হলেও পরে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দেন। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সত্যের পথে তিনি কখনো পিছপা হননি। সাংবাদিকতায় প্রবেশ করেন আশির দশকের শুরুতে। প্রথম থেকেই তাঁর কলম ছিল দুর্নীতি, সন্ত্রাস আর সমাজের দুষ্টগ্রহদের মুখোশ উন্মোচনের অপ্রতিরোধ্য হাতিয়ার। দৈনিক বাংলার বাণী থেকে শুরু করে আজকের কাগজ পর্যন্ত তিনি কাজ করেছেন নানা প্রতিষ্ঠিত পত্রিকায়। কিন্তু শুধু সাংবাদিকতায় সীমাবদ্ধ থাকেননি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য অনুসন্ধান তাঁকে নিয়ে গেছে দুর্গম পাহাড়, সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড পর্যন্ত। গবেষণার প্রয়োজনে তিনি ঝুঁকি নিয়েছেন, জেল খেটেছেন, অথচ হার মানেননি।

তাঁর ২১টি গবেষণাগ্রন্থ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, গণহত্যা, গণকবর, এবং চট্টগ্রামের হাজার বছরের ইতিহাসের অনন্য দলিল হয়ে উঠেছে। আমার ব্যক্তিগত সৌভাগ্য যে, ১৯৯২ সাল থেকে তাঁর সঙ্গে পথচলার সুযোগ হয়েছে। গবেষণা ও অনুসন্ধানী লেখালেখির অনুপ্রেরণা আমি তাঁর কাছ থেকেই পেয়েছি। আজ তিনি আবারও আমাকে (সাংবাদিক মোঃ কামাল উদ্দিন) চট্টল চিত্র পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার কথা বললেন। এই আস্থা আমার কাছে গর্বের, যেমন গর্বিত আমি তাঁর মতো একজন মনীষীর সঙ্গে কাজ করার স্মৃতিতে।
জামাল উদ্দিন শুধু ইতিহাস রচনা করেন না, তিনি ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখেন। তাঁর কলমে মুক্তিযুদ্ধের গৌরব, চট্টগ্রামের হারানো ঐতিহ্য আর সত্যের অমর আলোকশিখা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে যাবে। চট্টগ্রামের সন্তান হিসেবে আমরা তাঁর জন্য গর্বিত।