ঢাকাসোমবার , ৩০ মার্চ ২০২৬
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. জনপ্রিয় সংবাদ
  9. জাতীয়
  10. বিনোদন
  11. রাজধানী
  12. রাজনীতি
  13. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাংবাদিককে নিয়ে অপপ্রচার এক ব্যবসায়ীর লিখিত মুচলেকা ও ক্ষমা প্রার্থনা

admin
মার্চ ৩০, ২০২৬ ৫:১৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নূরুল আবছার নুরী,ফটিকছড়ি প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এক সাংবাদিককে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানহানিকর ও ভিত্তিহীন বক্তব্য দেওয়ার ঘটনায় এক ব্যবসায়ী লিখিত মুচলেকা দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

মুচলেকা প্রদানকারী মোহাম্মদ গোলাম কাদের, উপজেলার ফটিকছড়ি পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের উত্তর ধুরুং এলাকার বাসিন্দা এবং “খাজা টেলিকম” নামক একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক।

লিখিত মুচলেকায় তিনি উল্লেখ করেন।২৪ মার্চ
মঙ্গলবার ফটিকছড়ি প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ এবং দৈনিক ইনকিলাব, এশিয়ান টিভি ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলানিউজ২৪-এর প্রতিনিধি আলমগীর নিশান তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মোবাইলের ব্যাটারি পরিবর্তনের জন্য যান। এসময় তিনি ব্যাটারি সরবরাহ ও স্থাপনের আশ্বাস দিলেও পরে তা দিতে ব্যর্থ হন এবং বিষয়টি নিয়ে উভয়ের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে উত্তেজিত হয়ে গোলাম কাদের তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে সাংবাদিক আলমগীর নিশানকে উদ্দেশ্য করে “চাঁদাবাজ”, “ভুয়া সাংবাদিক”সহ বিভিন্ন মিথ্যা ও মানহানিকর মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে তিনি সাংবাদিক সমাজ নিয়েও আপত্তিকর বক্তব্য প্রদান করেন, যা পরবর্তীতে তিনি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া বলে স্বীকার করেন।

পরবর্তীতে থানা কর্তৃপক্ষের ডাকে উপস্থিত হয়ে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং লিখিতভাবে জানান, আলমগীর নিশানের বিরুদ্ধে তার আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি তাকে একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিক হিসেবেও স্বীকৃতি দেন।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তদন্ত রফিকুল ইসলাম বলেন, উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি যাচাই করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি তার ভুল স্বীকার করে লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না করতে তাকে সতর্ক করা হয়েছে।

ফটিকছড়ি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আমার দেশের উপজেলা সংবাদদাতা আবু একলাছ ঝিনুক বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এ ধরনের ঘটনার নিন্দা জানাই। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ায় বিষয়টি আপাতত মীমাংসা হয়েছে।

দৈনিক সমকাল-এর ফটিকছড়ি উপজেলা সংবাদদাতা ইকবাল হোসেন মঞ্জু বলেন,
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো পেশাজীবীকে নিয়ে অপপ্রচার করা উচিত নয়। এতে ব্যক্তির পাশাপাশি সাংবাদিকতার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। ভবিষ্যতে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক মো: জামশেদ জানান, এ ধরনের ঘটনা আমাদের জন্য শিক্ষা। সামাজিক মাধ্যমে কোনো কিছু প্রকাশের আগে সত্যতা যাচাই করা জরুরি।

মুচলেকায় গোলাম কাদের উল্লেখ করেন, তিনি তার বক্তব্যের জন্য অনুতপ্ত এবং সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট ক্ষমাপ্রার্থী। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করেন।

এছাড়া, তার পূর্বের লাইভ ভিডিও ব্যবহার করে কেউ অপপ্রচার চালালে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে গণ্য হবে বলেও মুচলেকায় উল্লেখ করা হয়।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, একজন পেশাদার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এ ধরনের মানহানিকর ও অনভিপ্রেত আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এটি ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের শামিল এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একজনকে অবমাননার প্রচেষ্টা। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে আরও হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।