সৌভিক পোদ্দার, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি
০৭.০৩.২০২৬
অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের চেষ্টাকালে ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে ৭ (সাত) ভারতীয় নাগরিকসহ ১১(এগারো) জন কে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
আটকের মধ্যে ২(দুই)জন নারী ও ৬ (ছয়) জন শিশু রয়েছে।
শুক্রবার রাতে মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সি ইমদাদুর রহমানের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তি তে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে মহেশপুরের ৫৮ বিজিবির অধীন বাঘাডাংগা বিওপি’র হাবিলদার অনুপম বিশ্বাসে নেতৃত্বে অভিযান চালায়। এসময় ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টাকালে ৪ জনকে আটক করে বিজিবি।
আটকরা হলেন, খুলনার দাকোপ থানার আন্ধারমানিক গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে, হুমায়ুন কবির, -সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার উত্তর আটুলিয়া হাওয়ালভাঙ্গী গ্রামের সিরাজুল গাজী (২৮)। বাকি দুজনের মধ্যে একজন নারী ও একজন শিশু।
এ ছাড়া আজ শুক্রবার সকালে মহেশপুরের শ্রীনাথপুর বিওপি’র নায়েব সুবেদার রমজান আলির নেতৃত্বে অভিযানকালে ভারতীয় ৭ (সাত)নাগরিককে আটক করে বিজিবি। আটককৃত ৭(সাত) ভারতীয় নাগরিক একই পরিবারের সদস্য। আটকদের মধ্যে ১(এক) জন নারী ও ৫(পাঁচ) জন শিশু।
আটক পুরুষ ভারতীয় নাগরিকরা হলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ফারাক্কা থানার টিল ঢাংগা গ্রামের হযরত আলীর ছেলে মো. শাহাজান (৩৩), তার স্ত্রী তৈয়বা বেগম (৩০)। এ সময় ভারতীয় দম্পতির পাঁচ সন্তানকেও আটক করে বিজিবি। তারা হলেন, ইমরান (১২), ইফরান (১০), আয়ান (৮), মো. জিদান (৬) ও মোছা. সায়দা খাতুন (৪)।
বিজিবি জানিয়েছে, আটক ভারতীয় নাগরিকরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, আটক শাহাজান ৩ বছর বয়সে ভারত গমন করেন এবং সেখানে ৩০ বছর যাবত স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। পরবর্তীতে শাহাজান ভারতীয় নাগরিক তৈয়বা বেগমকে বিয়ের পরে ভারতীয় নাগরিকত্ব লাভ করেন।
জানা গেছে, গত ডিসেম্বরে রাজশাহী সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে আটক ৭ ভারতীয় নাগরিক। তারা গাইবান্ধায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে গাইবান্ধা বিসিকে কাজ করতেন। কাজ শেষে শুক্রবার অবৈধভাবে মহেশপুর সীমান্ত পেরিয়ে তারা ভারতে ফেরার চেষ্টাকালে বিজিবির হাতে আটক হন।
মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সি ইমদাদুর রহমান বলেন, আটকদের মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
এই ব্যাপারে মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, আটক ৭(সাত) ভারতীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পরবর্তী করণীয় চলমান রয়েছে। এছাড়াও ওপর আটক ৪(চার) বাংলাদেশীদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ২(দুই) জন কে আদালতে সোর্পদ করা হবে। আটক নারী ও শিশুদের যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার সেন্টারে পাঠানো হবে।

